Logo
Logo
×
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি বাড়ানো ও কূপ খনন হবে, বললেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

খবর ।  সরকার

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি বাড়ানো ও কূপ খনন হবে, বললেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৭:০৫ পিএম

আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৪:৫৯ পিএম

দেশের চলমান জ্বালানির যে সংকট তা থেকে উত্তরণে এলএনজি আমদানি বাড়ানো এবং কূপ খননের পথে সরকার যাবে, এমনই কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে বুধবার সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘‘দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।’’

তিনি বলেন, ‘‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘ দিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে বের করে আনার জন্য বর্তমান সরকার কতগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’’

বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খনন/ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপ খনন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান সাতটি কূপ খনন শেষ হলে আরো ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।’’

জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

তিনি বলেন, ‘‘দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার টুডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গ কিলোমিটার থ্রিডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’’

‘‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে আরো দুইটি নতুন রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’’

অফশোর এবং অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ: কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সাথে নেগোসিয়েশন চলমান রয়েছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি (গ্যাস) সরবরাহ করা সম্ভব হবে মর্মে আশা করছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরো ৬০০ এমএমসিএফডি বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন দুই-একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন হলে সামগ্রিকভাবে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।’’

এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে