Logo
Logo
×

খবর ।  দেশ

রূপপুরে ইউরেনিয়াম আসছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬। ০১:৩৭ পিএম

আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৬। ১৩:৩৯ পিএম

রূপপুরে ইউরেনিয়াম আসছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ

রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম আসার মধ্য দিয়ে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে আজ শুক্রবার এই পারমাণবিক জ্বালানি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

দুপুরের মধ্যে জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। এরপর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় শনিবার ইউরেনিয়াম রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবারই ইউরেনিয়াম দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সরবরাহ প্রক্রিয়ায় সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়াই এর অন্যতম কারণ ছিল। পরে বিকল্প ব্যবস্থায় জ্বালানি পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

একসঙ্গে আসছে নয়টি চালান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের জন্য ধাপে ধাপে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আসবে সাতটি চালান। আর প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনর্ভরণের জন্য প্রয়োজন হবে আরও দুটি চালান।

সব মিলিয়ে নয়টি চালানে এই পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়ামই মূল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা, গ্যাস বা তেল পোড়ানোর মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন করা হলেও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল তাপ তৈরি করা হয়। সেই তাপ কাজে লাগিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয় এবং বাষ্পের মাধ্যমে টারবাইন ঘুরিয়ে উৎপাদন করা হয় বিদ্যুৎ।

কেন গুরুত্বপূর্ণ রূপপুরের ইউরেনিয়াম?

রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফলে এই প্রকল্পে ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু হওয়া শুধু একটি জ্বালানি পরিবহনের ঘটনা নয়; এটি দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

প্রকল্পটির প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বড় পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি কাঠামোতে নতুন একটি উৎস যুক্ত হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ে এগোলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই রূপপুর থেকে প্রাথমিকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

ইউরেনিয়াম থেকে গ্রিডে বিদ্যুৎ এরপর কী?

ইউরেনিয়াম দেশে পৌঁছানো এবং প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার পরই সরাসরি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে না। পারমাণবিক জ্বালানি গ্রহণ, সংরক্ষণ, রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি স্থাপন, বিভিন্ন পরীক্ষা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত ধাপ পেরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে হবে।

অর্থাৎ, ইউরেনিয়ামের চালান পৌঁছানোকে রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদনের শেষ ধাপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে সম্পন্ন করতে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি।

সব প্রক্রিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হয়ে উঠতে পারে। কারণ তখন প্রথমবারের মতো দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়ামের এই চালান তাই কেবল একটি বিশেষ কার্গো পরিবহন নয়—বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনার অংশ।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে