প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬। ০৫:০৮ পিএম
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬। ১৪:১৪ পিএম
দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদান এবং যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে। নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাভি পিল্লাই।
ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা বর্তমানে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি বৈশ্বিক শ্রদ্ধার জায়গায় ক্ষমতার রাজনীতি প্রাধান্য পাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় পিল্লাইয়ের অগ্রণী ভূমিকা, বিচারিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিগত সততা ও সাহসিকতাকে বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই শুরু করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন পিল্লাই। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে আইন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ১৯৮৮ সালে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান পিল্লাই। এ পদে নিয়োগ পাওয়া প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারীও তিনি।
১৯৯৯ সালে রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটিআর) বিচারক ও সভাপতি হন পিল্লাই। সেখানে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের মতো অপরাধকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অভিযোগে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। এ ছাড়া ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা মামলায় অস্থায়ী বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।


