প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
লাবিবা আক্তারের বাবা-মা তাদের নয় মাস বয়সী মেয়ের স্মৃতি হিসেবে তার পরা একটি নীল পোশাক রেখে দিয়েছেন। জুনে হামে আক্রান্ত হয়ে লাবিবার মৃত্যু হয়। রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে যে সে টিকা নেওয়ার উপযুক্ত ছিল, সে তথ্য পরিবারটিকে জানানো হয়নি। ছবি: রয়টার্স
বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব সামাল দিতে লড়ছে বাংলাদেশ। দুর্বল তথ্যব্যবস্থা, পর্যাপ্ত জনসচেতনতা না থাকা ও টিকাদানে ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের হার কমে গেলে কতটা ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে; বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা অন্য দেশগুলোর জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ২ হাজার সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজারের সংক্রমণ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে।
চলতি বছর বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা বেশি। এ পর্যন্ত অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগে ১ হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এসব মৃত্যুর ৯৪ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে হাম নিয়ন্ত্রণ করা কতটা কঠিন হতে পারে। ডব্লিউএইচওর মতে, হাম প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ প্রায় এই লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে টিকাদানের হার কমে যায়।
ডব্লিউএইচওর নথি পর্যালোচনা এবং এক ডজনের বেশি বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্যকর্মী ও কর্মকর্তার সঙ্গে রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে, জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পদক্ষেপ আরও কয়েকটি সমস্যায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছিল এমন তথ্যব্যবস্থা, যেখানে লাখ লাখ শিশুর হিসাব ছিল না, প্রস্তুতিতে ঘাটতি এবং পর্যাপ্তসংখ্যক অভিভাবকের কাছে পৌঁছাতে না পারা।
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব গ্লোবাল পাবলিক হেলথের অধ্যাপক ও ডব্লিউএইচওর টিকাবিষয়ক উপদেষ্টা মার্ক জিট বলেন, “এটি প্রতিটি দেশের জন্য একটি বাস্তব সতর্কবার্তা।” তার মতে, জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর মোকাবিলা করার চেয়ে টিকাদানের মাধ্যমে আগেই প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সহজ, সস্তা ও নিরাপদ।
তিনি বলেন, “জরুরি প্রতিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত প্রাদুর্ভাব থামাবে। কিন্তু তত দিনে অনেক মানুষ হামে আক্রান্ত হবে এবং তাদের কেউ কেউ মারা যাবে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার সেপ্টেম্বরে রয়টার্সকে বলেছিলেন, প্রাদুর্ভাব বন্ধ করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
এই প্রতিবেদনের জন্য অক্টোবরে পাঠানো পরবর্তী প্রশ্নগুলোর জবাব দেয়নি সরকার।
‘আমি ছেলেকে কবর দেওয়ার পর তারা এসেছিল’
দেশের ১৭ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট হাম প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।
জুলাইয়ে দুই বছরের আরমান হোসেন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তাকে কোনো টিকা দেওয়া হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসার খরচ চালাতে পরিবারটিকে তাদের তিন চাকার অটোরিকশা বিক্রি করতে হয়েছিল।
আরমানের চার বছরের বোনও টিকা পায়নি। তবে সে বেঁচে গেছে। তার বাবা ২৬ বছর বয়সী আমিন মিয়া বলেন, সময়মতো টিকা দিতে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী তাদের সিলেটের গ্রামে যাননি। তিনি বলেন, “আমি ছেলেকে কবর দেওয়ার পরই তারা এসেছিল।”
ডব্লিউএইচওর হিসাবে, সাধারণত প্রতি এক হাজার হাম রোগীর মধ্যে দুই থেকে তিনজন মারা যায়। তবে অপুষ্টিসহ বিভিন্ন কারণে দরিদ্র দেশে এই রোগ আরও প্রাণঘাতী হতে পারে।
সিলেট অঞ্চলেরই ছাতক শহরে ৩০ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি হুমায়ুন রশিদের নয় মাস বয়সী মেয়ে লাবিবা আক্তার জুনে মারা যায়। তাকেও টিকা দেওয়া হয়নি।
এপ্রিলের জরুরি কর্মসূচিতে টিকা দেওয়ার ন্যূনতম বয়স নয় মাস থেকে কমিয়ে ছয় মাস করা হয়েছিল। সে সময় লাবিবা চাইলে টিকা পেতে পারত। তার বাবা বলেন, “কোনো স্বাস্থ্যকর্মী আমাদের জানাতে আসেনি।”
মে মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন বলেছিলেন, জরুরি টিকাদান অভিযানের ফলে উচ্চঝুঁকির এলাকাগুলোতে সংক্রমণ “প্রায় শূন্যে” নেমে এসেছে ও প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৯৮ জন নতুন হাম রোগী শনাক্ত হয়। মে মাসের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা।
হামের প্রধান উপসর্গের মধ্যে আছে উচ্চ জ্বর, কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি।
বাংলাদেশে এই প্রাদুর্ভাব এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন বিশেষ করে ধনী দেশগুলোতে টিকা নিয়ে দ্বিধা বা সংশয় বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের মতো কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশয়বাদী বক্তব্য এই প্রবণতাকে আরও উসকে দিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো টিকা পাওয়ার সুযোগ ও সচেতনতার ঘাটতি।
একসময় টিকাদানে সাফল্যের উদাহরণ ছিল বাংলাদেশ
কিছুদিন আগেও বাংলাদেশকে সফল টিকাদান কর্মসূচির উদাহরণ হিসেবে দেখা হতো। ডব্লিউএইচও ও জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হামের প্রথম ডোজ টিকার কভারেজ ছিল ৯৬ শতাংশ। দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ ছিল ৯৩ শতাংশ।
প্রথম ডোজের পর যে অল্পসংখ্যক শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয় না, তাদের সুরক্ষিত করতে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু একই বছর সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতায় স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘটে যান, টিকার অর্ডার দিতে দেরি হয় এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সাধারণত যে ফলোআপ টিকা দেওয়া হয়, সেটিও ব্যাহত হয়।
চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডব্লিউএইচও ও ইউনিসেফ ধারণা দেয়, ২০২৫ সালে প্রথম ডোজের কভারেজ নেমে ৯০ শতাংশে এসেছে। দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ ছিল ৮৬ শতাংশ। দুটি হারই হার্ড ইমিউনিটি বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশের তুলনায় কয়েক শতাংশ পয়েন্ট কম।
প্রতিবেদনটিতে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হামসহ অন্যান্য রোগের টিকাদানের সরকারি তথ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সেখানে বলা হয়, প্রাথমিক কিছু হিসাব কখনো কখনো দেখিয়েছে লক্ষ্য করা শিশুর সংখ্যার তুলনায় টিকা নেওয়া শিশুর সংখ্যা ১০০ শতাংশেরও বেশি। এতে বোঝা যায়, হয় ডোজ গণনায়, নয়তো টার্গেট জনসংখ্যা নির্ধারণে ভুল ছিল।

২০২৬ সালের ১১ মে নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে হামে আক্রান্ত পাঁচ মাস বয়সী ছেলে ঈসার চিকিৎসা চলার সময় অপেক্ষা করছেন তার বাবা-মা ইকবাল ও শারমিন। ছবি: রয়টার্স
জরুরি কর্মসূচিতে বাদ পড়েছিল লাখ লাখ শিশু
তবু হাম প্রাদুর্ভাব শুরু হলে বাংলাদেশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আর প্রথম দিকে মনে হয়েছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে। এপ্রিল ও মে মাসে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার পর নতুন সংক্রমণ কমতে শুরু করে।
সরকার বলেছিল, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী লক্ষ্যভুক্ত প্রতিটি শিশুকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
জুনে আরেকটি নিয়মিত স্বাস্থ্য কার্যক্রমে একই বয়সী শিশুদের জন্য তৈরি লক্ষ্যতালিকায় হাম টিকাদান কর্মসূচির তুলনায় ৪০ লাখ বেশি শিশুর নাম পাওয়া যায়। ১৪ সেপ্টেম্বর, যখন হাম আবার বাড়তে শুরু করেছে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হায়দার রয়টার্সকে বলেন, “এখানে একটি ঘাটতি আছে।”
তিনি এজন্য অভিভাবকদের টিকা নিয়ে দ্বিধা এবং শিশুদের অসুস্থ থাকার মতো কারণকে দায়ী করেন। এর পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যা সামনে এসেছে।
এপ্রিল ও আগস্টে সরকার, ডব্লিউএইচও এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য অংশীদারের বৈঠকের নথি রয়টার্স পর্যালোচনা করেছে। এসব তথ্য আগে প্রকাশিত হয়নি। নথিগুলো দেখায়, দ্রুত পদক্ষেপ নিতে গিয়ে কিছু প্রস্তুতিমূলক ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
১৯ এপ্রিলের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়, সময়ের স্বল্পতার কারণে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরুর আগে সাধারণত চার দফায় যে প্রস্তুতি যাচাই করা হয়, তার বদলে সরকার মাত্র এক দফা যাচাই করেছে। এসব যাচাইয়ের মধ্যে থাকে টিকা ঠান্ডা রাখতে পর্যাপ্ত ফ্রিজ আছে কি না থেকে শুরু করে কত শিশুকে টিকা দেওয়া প্রয়োজন; এমন নানা বিষয়।
এক দফা প্রস্তুতি যাচাইয়ে দেখা গিয়েছিল, বেশিরভাগ জেলা প্রস্তুত ছিল; তবে সবগুলো নয়।
‘দরিদ্ররাই মূল্য দেয়’
বাংলাদেশের ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি ফর মিজেলস অ্যান্ড রুবেলা এলিমিনেশনের চেয়ারম্যান ও মহামারিবিদ অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, “প্রস্তুতির যাচাই ঠিকভাবে না হলে সবচেয়ে দরিদ্র এবং সবচেয়ে দুর্গম এলাকায় থাকা শিশুরাই প্রায়ই টিকা থেকে বাদ পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তারাই মূল্য দেয়।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এপ্রিলের কর্মসূচি চার সপ্তাহের মধ্যে চালু করা হয়েছিল।
কিন্তু ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়া তাজুল ইসলাম আবদুল বারি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি প্রস্তুত করতে সাধারণত কয়েক মাস সময় লাগে।
আগস্টের বৈঠকের সময় কর্মসূচির বাস্তবায়নে কিছু ঘাটতি চিহ্নিত হয়।
বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়, পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া শিশুদের মধ্যে যারা টিকা নেয়নি, তাদের অনুপাত “কর্মসূচির আগে ৮২ শতাংশ এবং পরে ৮৫ শতাংশ; প্রায় অপরিবর্তিত ছিল... যা টিকাদানে স্থায়ী ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট করে।”
এপ্রিল ও আগস্টের বৈঠক নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি ডব্লিউএইচও। তবে বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর উপপ্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল বলেন, ঝুঁকিতে থাকা প্রতিটি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য পূরণে সরকারকে সহায়তা করতে সংস্থাটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, “নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও সহনশীল করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘাটতি আবার তৈরি না হয়।”
সিলেটে সরকারি হিসাবে ১৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে রয়টার্স ১৬টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। এর মধ্যে আটটি পরিবার জানায়, তারা স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দিতে আসতে দেখেনি। কমপক্ষে ছয়টি পরিবার বলেছে, তাদের এলাকায় কোনো শিশু হামে মারা যাওয়ার পরই স্বাস্থ্যকর্মীরা এসেছিলেন।
নতুন করে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজছে সরকার
সেপ্টেম্বরের শেষে সরকার নতুন আরেকটি কর্মসূচি শুরু করে। এর লক্ষ্য ছিল আগের কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা গ্রামজুড়ে মানুষকে যুক্ত করব, যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে।” তবু প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু নিবন্ধনের বাইরে থাকতে পারে। অন্যদিকে সরকারি তথ্য বলছে, স্বাস্থ্যকর্মীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পদ শূন্য রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছেন। ডব্লিউএইচওর মতে, মোট হাম রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এই বয়সী শিশু। এছাড়া বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন, ছয় মাস বা তার কাছাকাছি বয়সী শিশুদের শরীরে প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাচ্ছে কেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত এই বয়স পর্যন্ত শিশুরা মায়ের শরীর থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির সুরক্ষা পায়। ডব্লিউএইচও বলছে, দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু বাংলাদেশ একই সময়ে ডেঙ্গু মহামারির সঙ্গেও লড়ছে। ফলে এটিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
সেপ্টেম্বরে সিলেটের ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে হামের রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডই কার্যত অতিরিক্ত রোগীর চাপে ছিল। রয়টার্স যেদিন হাসপাতালটি পরিদর্শন করে, সেদিন সেখানে ভর্তি ছিলেন ১৭৮ জন রোগী।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স






