প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করেছে মুম্বাই পুলিশ। একই সঙ্গে হামলার সময়ের কয়েকটি ভিডিও সামনে এসেছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের ১৫টি বিশেষ দল।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় একটি ফুটবল মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হন টাইগার শ্রফ। মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি তার বিএমডব্লিউ গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলায় অভিনেতার গাড়িচালক ফেরদৌস এবং কাছাকাছি থাকা চৌহান নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। টাইগার শ্রফ গুলিবিদ্ধ না হলেও তার হাত ও বুকে সামান্য আঘাত লাগার খবর পাওয়া গেছে।
পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীর ছবিতে তাদের সাদা শার্ট পরা অবস্থায় দেখা যায়। একজনের মাথায় পুমা লোগোযুক্ত কালো টুপি রয়েছে।
হামলার সময় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, টাইগার গাড়ির যে পাশে বসেছিলেন, সেদিকেই গুলি চালানো হয়। ভিডিওর ভিত্তিতে দুই বন্দুকধারীর পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ার তথ্য সামনে এসেছে। তবে গুলির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গুলি চালানোর একপর্যায়ে একজন হামলাকারীর অস্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এরপর আহত গাড়িচালক গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলে হামলাকারীরা আগে থেকে প্রস্তুত রাখা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান।
গুলির ঘটনার পর নিজেই গাড়ির চালকের আসনে বসেন টাইগার শ্রফ। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে দ্রুত হাসপাতালে যান তিনি।
হামলাকারীদের খোঁজে ১৫ দল, মোটরসাইকেল উদ্ধার
ঘটনার পর জুহু থানায় তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। তদন্তে মুম্বাই পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের ১৫টি বিশেষ দল কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি মুম্বাইয়ের আন্ধেরি রেলস্টেশন এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
মোটরসাইকেলটির নিবন্ধন নম্বর, চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর পরীক্ষা করে মালিক এবং হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
আন্ধেরি স্টেশন থেকে তারা কোন পথে পালিয়েছেন, তা জানতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। পাশাপাশি বাস ও ট্রেনে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
তদন্তকারীরা টাইগারের আহত গাড়িচালকের জবানবন্দিও নিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল।
এদিকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ফোনে টাইগার শ্রফের সঙ্গে কথাও বলেছেন।
উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছেন।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী শাহরুখ শেখ জানিয়েছেন, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে তিনি হামলাকারীদের মুখ ভালোভাবে দেখতে পারেননি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িতে ওঠার আগে টাইগার ভক্তদের সঙ্গে হাত মেলান এবং ছবি তোলেন। কিন্তু গাড়িটি স্টেডিয়ামের ফটক পার হওয়ার পরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়।
হামলার দায় স্বীকারের দাবি বিষ্ণোই গ্যাংয়ের
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে ঘটনার দায় স্বীকারের দাবি করা হয়েছে।
অডিওতে নিজেকে অনিল পণ্ডিত পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি জানান, তিনি ও হারমান সান্ধু হামলার দায়িত্ব নিচ্ছেন।
ওই ব্যক্তি দাবি করেন, টাইগার শ্রফকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। বলিউডে যারা তাদের নির্দেশ অমান্য করবেন কিংবা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবেন, তাদেরও হামলার হুমকি দেওয়া হয়।
তবে অডিও বার্তাটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রকৃত সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
বলিউড অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত।
২০১৮ সালে ওই মামলায় সালমানের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে সালমান ও তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিকবার হুমকি এবং হামলার অভিযোগ উঠেছে।
টাইগার শ্রফের বাবা জ্যাকি শ্রফও সালমান খানের সঙ্গে একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। টাইগারের চলচ্চিত্রজীবন শুরুর ক্ষেত্রেও সালমানের সহযোগিতার কথা বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের দায়ও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছিল।
তবে টাইগার শ্রফের ওপর সাম্প্রতিক হামলার উদ্দেশ্য কী এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত করেনি মুম্বাই পুলিশ। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

