প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ এএম
পাকিস্তানের ইশকোমান উপত্যকার উপরে অবস্থিত কোয়োট ডেন ইশকোমান হোস্টেল। ছবি: বিবিসি
পাকিস্তানের ট্রাভেলারদের ওই হোস্টেলে পৌঁছাতে আমি মোটরসাইকেলে পাড়ি দিয়েছি ৬৫০ কিলোমিটার। এখানে সময় কাটানোর উপায়ও বেশ অভিনব। ভেড়ার সঙ্গে অলস সময় কাটানো, পাকিস্তানি আতিথেয়তা উপভোগ করা কিংবা এমন শামানের কাছে যাওয়া, যিনি নাকি আপনার ভবিষ্যৎ জানতে পারেন।
পাথরের ছোট ছোট টুকরোয় ঢাকা খাড়া ঢাল বেয়ে ওপরে উঠছি আমি। সামনে এগিয়ে যাচ্ছে সাদা পশমে ঢাকা এক পাল ভেড়া। ওদের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে প্রতিটি টলমলে পদক্ষেপেই আমার পায়ের নিচে যেন ছোটখাটো ধস নেমে যাচ্ছে।
কিন্তু ভেড়াগুলোর তাতে কোনো ভাবান্তর নেই। বিপজ্জনক পাহাড়ি ঢাল ধরে তারা এমন স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে চলেছে, যেন পথটি তাদের মুখস্থ। অভিজ্ঞ গাইডের মতো আমাকেও নিয়ে যাচ্ছে একটি উঁচু জায়গায়, যেখান থেকে পুরো উপত্যকা দেখা যায়।
হঠাৎ তারা থেমে ঘাস খেতে শুরু করে।
আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে শ্বাস নিই। তারপর তাকাই উত্তর পাকিস্তানের ইশকোমান উপত্যকার দিকে। চারপাশে বরফঢাকা পাহাড়চূড়া, মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে হিমবাহ থেকে নেমে আসা ফ্যাকাশে রঙের স্রোত। সরু আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তার পাশে ফুটে আছে হালকা গোলাপি চেরি ফুল। রাস্তা নেমে গেছে কোয়োট ডেন ইশকোমান হোস্টেলের দিকে।
এই সপ্তাহে এটিই আমার পাহাড়ি আশ্রয়। এখান থেকে আমি উঁচু পাহাড়ে ট্রেক করছি, আর দেখা করতে যাচ্ছি এমন এক নারী শামানের সঙ্গে, যিনি নাকি পরীদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

খোলা সড়কে যাত্রা পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্য কাছ থেকে দেখার দারুণ এক উপায়। ছবি: বিবিসি
দীর্ঘ, কিন্তু অপূর্ব পথ ধরে
পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের উঁচুতে অবস্থিত ইশকোমান উপত্যকায় পৌঁছাতে আমি ইসলামাবাদ থেকে ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩ মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। লক্ষ্য ছিল রাজধানীর যানজট ও ধোঁয়াশা ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে পথ চলা।
আফগানিস্তানের ওয়াখান করিডরের সীমান্তঘেঁষা ইশকোমান পাকিস্তানের সবচেয়ে কম ভ্রমণ করা পাহাড়ি অঞ্চলগুলোর একটি। যারা দ্রুত পৌঁছাতে চান, তারা সাধারণত গিলগিট পর্যন্ত একটি ছোট ফ্লাইট নেন। যদিও এই ফ্লাইট সময়মতো চলে, এমন সুখ্যাতি নেই। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে আরও চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা যেতে হয়। স্থলপথে বাসযাত্রায় সময় লাগতে পারে ২০ ঘণ্টারও বেশি।
কিন্তু পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিকারের উপভোগ করতে চাইলে খোলা সড়কে যাত্রার তুলনা নেই।
তিন দিনের পাহাড়ি যাত্রার জন্য আমি ১৫০ সিসির একটি ‘ফুল পাত্তি’ মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়েছিলাম। পাকিস্তানি ট্রাক আর্টের উজ্জ্বল বহুরঙা নকশায় ঢাকা ছিল বাইকটি। ইসলামাবাদের ছককাটা রাস্তা পেরিয়ে আমি উত্তর দিকে কারাকোরাম হাইওয়েতে গতি বাড়াই।
কারাকোরাম বিশ্বের সর্বোচ্চ পাকা আন্তর্জাতিক মহাসড়ক। এটি প্রাচীন সিল্ক রোডের পথ ধরে এগিয়েছে, অনেক নিচে বয়ে চলা ফিরোজা রঙের সিন্ধু নদীর ওপর দিয়ে পাহাড়ের গা ঘেঁষে উঠে গেছে।
বেশাম শহর থেকে চিলাস, এরপর উত্তরের প্রবেশদ্বার গিলগিটের দিকে যেতে যেতে উন্মুক্ত পাহাড়ি সড়কের প্রতিটি তীক্ষ্ণ বাঁকের পর সামনে এসেছে বরফঢাকা খাঁজকাটা শৃঙ্গ। এর মধ্যে সবচেয়ে দাপুটে উপস্থিতি নাঙ্গা পর্বতের ৮ হাজার ১২৬ মিটার বা ২৬ হাজার ৬৬০ ফুট উঁচু বিশাল চূড়ার।
গাহকুচের জমজমাট বাজার পেরোনোর পর রাস্তা সরু হয়ে একফালি পিচঢালা পথে পরিণত হয়। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির ওঠানামা অনুসরণ করে সেটি আমাকে নিয়ে যেতে থাকে ইশকোমান উপত্যকার আরও দুর্গম এলাকায়।
তিন দিনের পথে আমি থেমেছি মূলত ছবি তুলতে, রাস্তার পাশের গেস্টহাউসে ঘুমাতে এবং পুলিশ চেকপোস্টে ইউনিফর্ম পরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ ভাগ করে নিতে।
শেষ পর্যন্ত চাতোরখান্দে পৌঁছে ক্লান্ত শরীরে কোয়োট ডেনের কাঠের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম।

ইশকোমান উপত্যকায় পৌঁছাতে ভ্রমণকারীদের প্রাচীন সিল্ক রোড ধরে যেতে হয়। ছবি: বিবিসি
নিরিবিলি এক আশ্রয়
হোস্টেলে আসার পর অসংখ্য ঘণ্টা কাটিয়েছি চারপাশে ঘুরে বেড়িয়ে। কখনো সঙ্গে ছিল ভেড়ার পাল, কখনো কোয়োট ডেনের মালিক সানা মারওয়াত ও অ্যালেক্স রেনল্ডসের সঙ্গে পার্সিমন ফল তুলেছি।
বিস্তীর্ণ এই জায়গাটি তৈরি করা হয়েছে কম খরচে থাকা যায় এমন একটি ‘ট্রাভেলার্স হোস্টেল’ হিসেবে। এটি মূলত ভবঘুরে ভ্রমণকারী ও মোটরবাইক আরোহীদের জন্য।
রেনল্ডস বলেন, “ইশকোমান তার পাথরের গাঁথুনির কাজের জন্য বিখ্যাত। আমাদের ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত সব কাঠ স্থানীয় পাইন ও পপলার গাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। আর পাথর সংগ্রহ করা হয়েছে কাছাকাছি জলধারা থেকে।”
ফলাফল; গোলাপে ভরা বাগানের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা কয়েকটি পাথরের কটেজ। জানালার ওপরে রঙিন কাচ বসানো। দেয়ালে ঝোলানো স্থানীয় নকশার রঙিন কার্পেট। আর কাদামাটির দেয়ালঘেরা ডাইনিং রুমে রাতের খাবার সবসময় পরিবেশন করা হয় সবাইকে একসঙ্গে, পারিবারিক পরিবেশে।
এখানে মূল বিষয় অবশ্যই বিশ্রাম। তবে চাইলে কাছের নালতার থেকে ট্রেক করে ইশকোমান উপত্যকায়ও ফেরা যায়।
রেনল্ডস বলেন, “এই পথ পাড়ি দিতে তিন থেকে চার দিন লাগে। প্রায় ৪৫ কিলোমিটার বা ২৮ মাইলের এই ট্রেকের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৭০০ মিটার বা ১৫ হাজার ৪২০ ফুট উঁচু পাকোরা পাস ও একটি হিমবাহ পার হওয়া।”
ইশকোমানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি হলো এই বিচ্ছিন্নতা।
রেনল্ডস বলেন, “আমরা ইশকোমানে কোয়োট ডেন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ এটি উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকাগুলোর মধ্যে এখনো সবচেয়ে অক্ষত জায়গাগুলোর একটি। এখানকার জনগোষ্ঠী সামগ্রিকভাবে বেশ শিক্ষিত। ফলে তারা তুলনামূলকভাবে খোলামেলা মানসিকতার ও সহনশীল।”
পাহাড়ি জীবন অনেক বেশি বাস্তবমুখী। এখানে নারী ও পুরুষ উভয়েই বাড়ির বাইরে খামারে কাজ করেন। উপত্যকার অধিকাংশ মানুষ ইসমাইলি মুসলিম। এটি শিয়া ইসলামের একটি শাখা, যেখানে ধর্মের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা এবং অন্তর্নিহিত গভীর অর্থের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঘরে তৈরি মিষ্টি লাল ওয়াইনে চুমুক দিতে দিতে আমি ‘চিদ’ এর মেঝের কুশনে হেলান দিয়ে বসি। চিদ হলো পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী বৈঠকখানা। দাদাং ঢোলের দ্রুত ছন্দ আর রুবাবের তারের আবেগময় প্রতিধ্বনিতে ঘর ভরে যায়।
স্থানীয় কয়েকজন পুরুষ বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী দানি হারিপ নাচ করছেন। তারা আমার বিনোদনের জন্য নাচছেন না; এটি তাদের নিজেদেরই সামাজিক জীবনের অংশ।
নির্ভরযোগ্য ওয়াই-ফাই বা টেলিভিশন নেই এখানে। তাই দিনের শেষে বিশ্রামের স্থানীয় ধরনটিই আমি আপন করে নিই। হাসি আর প্রাণবন্ত ঐতিহ্যবাহী নাচে ভরা একটি সন্ধ্যা।
এই বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের মধ্যেই থাকেন রাশিদা নামের এক নারী। তিনি একজন নারী শামান। কথিত আছে, ভবিষ্যৎ বলতে পারে এমন পাহাড়ি পরীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি কমিউনিটির অন্যতম জনপ্রিয় মানুষ। পরদিন কোয়োট ডেনের কর্মীদের সহায়তায় তার সঙ্গে দেখা করতে যাব আমি।

উপত্যকাটির দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন অবস্থানই এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি। ছবি: বিবিসি
যে নারী পাহাড়ি পরীদের সঙ্গে কথা বলেন
পরদিন সকালে মারওয়াতের ধুলোমাখা পিকআপ ট্রাকের পেছনে উঠে বসি। নদী পেরিয়ে পাহাড়ের ওপরে রাশিদার বাড়িতে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয়রা তার পরিবারের কাছে আসছেন। তবে মারওয়াত জানান, হোস্টেলের অতিথিরাও রাশিদার সঙ্গে দেখা করতে খুব পছন্দ করেন।
স্থানীয় চিত্রালি লোকবিশ্বাসে ‘পেরি’ বা পরীরা হলো আলোকোজ্জ্বল ডানাওয়ালা সত্তা, যারা মানবজগৎ ও ঐশ্বরিক জগতের মাঝামাঝি এক জগতে বাস করে বলে বিশ্বাস করা হয়। আর এই বিশ্বাস ওই অঞ্চলে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ারও আগের।
ঐতিহ্যগতভাবে মনে করা হতো, শামানরা এসব পরীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং তাদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা নিতে পারেন। কিন্তু গত এক শতকে এই প্রথা দ্রুত কমে এসেছে। এখন হাতে গোনা কয়েকজনই এই চর্চার সঙ্গে যুক্ত।
তারপরও দুটি বিশ্বাসব্যবস্থা পাশাপাশি টিকে আছে।
অন্তত রাশিদার বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করা ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের দেখে মনে হয়, রহস্যময় জগতের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার মধ্যে তারা কোনো বিরোধ দেখেন না।
কাদামাটির দেয়ালঘেরা বাড়ির একটি ছোট টেবিলে বসেছেন রাশিদা। প্রায় খালি দেয়ালের অনেক ওপরে ঝোলানো একটি আয়নার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে তিনি পরীদের কাছ থেকে পাওয়া উত্তর আমাদের জানাতে প্রস্তুত হচ্ছেন।
তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মানবজগৎ ও অতিপ্রাকৃত জগতের মধ্যস্থতাকারী। তার কথা আমাদের বুঝিয়ে দেন মারওয়াত ও কোয়োট ডেনের গাইড হাকিম উল্লাহ।
আমি একের পর এক আমার বহুদিনের কৌতূহলের প্রশ্ন রাশিদাকে করতে থাকি। কিন্তু প্রতিটি প্রশ্ন ও উত্তর কয়েকটি ভাষা পেরিয়ে ধীরে ধীরে পৌঁছায়; অনেকটা টেলিফোন গেমের মতো।
মারওয়াত বলেন, “শুধু ইশকোমান উপত্যকাতেই ১০টি ভাষা বলা হয়। এখানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ভাষা খোয়ার বা চিত্রালি। এটি পাকিস্তানের জাতীয় ভাষা উর্দু থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।”
রাশিদার খোয়ার ভাষা থেকে হাকিম উল্লাহ অনুবাদ করছেন উর্দুতে। উর্দু থেকে মারওয়াত অনুবাদ করছেন ইংরেজিতে। আবার একই পথে উত্তর যাচ্ছে রাশিদার কাছে। এভাবেই আমরা আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করি।
এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘোরাঘুরি যখন একদিন থামাব, শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থাকব? উত্তর; সম্ভবত নিউজিল্যান্ড।
আমার কি পেশা বদলানো উচিত? উত্তর; না।
আমি কি একদিন আমার প্রিয় স্বামীকে ডিভোর্স দেব? স্বস্তির বিষয়, উত্তর এখানেও; না।

কোয়োট ডেনে দিনের সময় চলে যায় ট্রেকিং আর ভেড়ার সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়ে। ছবি: বিবিসি
পাকিস্তানি নারীদের সহায়তা
চার দিন ধীর গতিতে কেটে যায়। হ্যামকে শুয়ে থাকা, ভেড়ার সঙ্গে নদীর ধারে হাঁটা এবং হোস্টেলের তুঁতগাছের নিচে বসে দুধ দেওয়া পাহাড়ি চা পান করে। এরপর রেনল্ডস ও আমি পায়ে হেঁটে উপত্যকা ঘুরতে বের হই।
দাইন জলপ্রপাতের দিকে আলগা পাথরে ঢাকা পাহাড়ি ঢাল বেয়ে উঠতে উঠতে তিনি পাকিস্তানের প্রতি তার ভালোবাসার কথা বলেন। একই সঙ্গে ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতির সীমার ভেতরে থেকেই তিনি নারীদের ক্ষমতায়ন করে এমন একটি ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।
তিনি বলেন, “কোয়োট ডেনের কর্মীদের অর্ধেকই নারী। এমন একটি অঞ্চলে এটি বেশ অস্বাভাবিক, যেখানে নারীদের সাধারণত বাড়ির বাইরে বেতনভুক্ত চাকরি থাকে না। আমরা তাদের কাজের সময় নমনীয় রাখি, যাতে দিনের মাঝামাঝি তারা বাড়ি গিয়ে সন্তানদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন।”
“আর একেবারেই জরুরি না হলে সূর্যাস্তের পর যেন তাদের কাজ করতে না হয়, সেটিও নিশ্চিত করি।”
হিমবাহ থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতের ইশকোমান নদীর ওপর সরু কাঠের তক্তার সেতু দিয়ে আমি পার হই। সামনে বিস্তৃত হয় পুরো উপত্যকা।
আমি পাকিস্তানে এসেছিলাম অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবিষ্কার করলাম, আমি আসলে চাইছিলাম নিঃসঙ্গতা আর নীরবতা। প্রাচীন সিল্ক রোডের এই দুর্গম উপত্যকার কোথাও এসে সেই শান্তিটাই যেন আমাকে খুঁজে পেল।
লেখক: জিনা ট্রুম্যান



