প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
সৌদি যুবরাজ সালমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। ছবি: বাংলাবাজার ক্রিয়েটিভ
হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সক্রিয় করেছে। পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান।
রিয়াদে তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকের পর সোমবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। গত ৭ আগস্ট চুক্তি স্বাক্ষরের পর এবারই প্রথম এর যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা সক্রিয় করা হলো।
চুক্তির মূলনীতি অনুযায়ী, জোটভুক্ত তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যৌথ প্রতিরক্ষার এই কাঠামো ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনীয়।
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলা ও এর পেছনে থাকা শক্তিগুলোকে মোকাবিলায় যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তিন দেশ একমত হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা পাঠানো হবে এবং দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করা হবে। তবে প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব আইন ও অনুমোদিত ব্যবস্থার সীমার মধ্যেই এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে।
এই ঘোষণা আসে এমন এক সময়ে, যখন সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনর্দখলে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনী দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনি বাহিনীকে আকাশ থেকে সহায়তা দিচ্ছে।
অন্যদিকে হুতিরা রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাবিগের আরামকো শোধনাগারসহ একাধিক সৌদি স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। বিমানবন্দর, বিমানঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
তবে এসব হামলার সব দাবি সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত তীব্র হওয়ার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত আগস্টে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে।
চুক্তির পর সামরিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সমন্বয় এবং যৌথ প্রতিক্রিয়ার কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হলেও প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট সামরিক দায়বদ্ধতা তখন বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে সৌদি আরব লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, সৌদি ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলা হলে মক্কা চুক্তি সক্রিয় হতে পারে।
তবে সোমবার পর্যন্ত তুরস্ক বা পাকিস্তানের বাহিনী সরাসরি সৌদি আরবে মোতায়েন করা হয়নি। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এবার সেই সম্ভাবনাই বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে।
জোটভুক্ত তিন দেশের সম্মিলিত সামরিক সক্ষমতাও বড়। ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬’-এর তথ্য অনুযায়ী, তিন দেশের প্রায় ১৪ লাখ সক্রিয় সেনাসদস্য, আনুমানিক ৩ হাজার ৪০০ সামরিক বিমান, ৬ হাজার ট্যাংক এবং ৩৪০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক জলযান রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তানের সরাসরি অংশগ্রহণ আঞ্চলিক সামরিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সাম্প্রতিক হুতি হামলা এবং ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন সংঘর্ষই এই জোটকে দ্রুত সক্রিয় করার প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।



-6ad07fdcc01bc.jpg)


