প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ এএম
ভারতে রপ্তানি বেড়েছে ৭.৬৭%, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এখনো বড় ঘাটতি
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৭:৫৭ পিএম
- শেয়ার
- Messenger
- Telegram
- Threads
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশের। প্রতীকী ছবি
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রতিবেশী ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানি আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক রপ্তানি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ভারতে বাংলাদেশ ৩৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ১৩ লাখ ডলার।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।
জুলাইয়ে রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশি
ভারতের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রবণতা শুরু হয়েছে অর্থবছরের শুরু থেকেই। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
দুই মাসের হিসাবে ভারতের বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক চিত্রের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি প্রায় ৯১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারেও প্রবৃদ্ধি
ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজারেও আয় বেড়েছে।
প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ১৮৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পেনে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ, যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।
এ সময়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৭ কোটি ৪ লাখ ডলার। নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে ৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
কানাডায় বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।
তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ৮৭ শতাংশ
উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি ৪২ লাখ ডলারের।
মেক্সিকোতে রপ্তানি ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সুইডেনে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ০৯ শতাংশ, যার পরিমাণ ১৩ কোটি ৪ লাখ ডলার।
অস্ট্রেলিয়াতেও রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ
সামগ্রিকভাবে আগস্ট মাসেও দেশের রপ্তানি আয় ছিল বেশ শক্তিশালী। ওই মাসে বাংলাদেশ ৪৪৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে।
গত বছরের আগস্টে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৯২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।
ভারতের বাজারে বড় সম্ভাবনা
বাংলাদেশের জন্য ভারত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাজারগুলোর একটি। বড় ভোক্তা বাজার, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের কাছে ভারতের বাজারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
তবে রপ্তানি বাড়লেও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ১৭৫ কোটি ডলার। ফলে ওই অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২১ কোটি ডলার।
এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
পোশাকের বাইরে অপ্রচলিত পণ্যে জোর
ভারতের বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার আরও বাড়ানো গেলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি প্লাস্টিক পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্যসহ অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বলছে, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি ভারতসহ আঞ্চলিক ও উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারতের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশ এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও রপ্তানি বৃদ্ধির এই ধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: বাসস






