প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
বিশ্ব বাজারে বেড়েই চলছে তেলের দাম, সামনে কী হবে
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০১:১৯ পিএম
আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৫:৫৯ পিএম
- শেয়ার
- Messenger
- Telegram
- Threads
মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশা দুর্বল হয়ে পড়ায় এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং ফেডারেল রিজার্ভ আবার সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা। মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে এই চাপ স্পষ্ট ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার সম্ভাবনাও নতুন করে অনিশ্চিত হয়েছে। ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে। কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের সঙ্গে পৃথক যোগাযোগও চলছে।
বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বড় কারণ তেলের দাম। সংঘাত দীর্ঘ হলে জ্বালানির উচ্চ মূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রেও বাজার এখন পরবর্তী বৈঠকে ফেডের আরেক দফা সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনায় নিচ্ছে। সোমবার তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলনের কারণে ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলোও নিম্নমুখী ছিল।
এর মধ্যে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় এবং বিদেশে জব্দ করা অর্থ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন—এমন প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ইরানকে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট অগ্রগতির বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তেহরান হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি স্বাভাবিক করার জন্য কয়েকটি শর্ত সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং সামরিক তৎপরতা বন্ধের দাবি।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। সংঘাতের কারণে সেখানে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কাতার-সংশ্লিষ্ট কিছু এলএনজি জাহাজের চলাচল আবার বেড়েছে। তারপরও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক ইয়ান লিংগেনের মতে, সংঘাত ও সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব আরও কিছুদিন বৈশ্বিক বাজারে থাকতে পারে। বিনিয়োগকারীদেরও উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও সরবরাহের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার প্রধান দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১০৭ ডলারের কাছাকাছি উঠে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগই বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে।
উচ্চ তেলের দাম এশিয়ার শেয়ারবাজারেও চাপ বাড়িয়েছে। টোকিও, সিউল, হংকংসহ বেশিরভাগ আঞ্চলিক বাজারে সূচক কমেছে। এমএসসিআইয়ের এশীয় শেয়ার সূচকও প্রায় ১ শতাংশ নিচে নেমেছে। ভারতের বাজারেও বড় সূচকগুলো প্রায় ছয় মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি চলে যায়।
সুদ বাড়ার আশঙ্কায় স্বর্ণেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি বন্ডের ফলন বেড়েছে। মার্কিন দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি ফলন প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বাজারে এখন আগামী কয়েক মাসে ফেডের আরও সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
সুদের হার বাড়লে সাধারণত কোনো সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। ফলে সাম্প্রতিক লেনদেনে স্বর্ণের দামও চাপের মধ্যে রয়েছে।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নতুন তথ্যের দিকে। এসব পরিসংখ্যান থেকে অর্থনীতিতে মূল্যচাপ কতটা স্থায়ী হচ্ছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে এবং ফেডের পরবর্তী সুদের সিদ্ধান্তেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাজারে অক্টোবরের বৈঠকে আরেক দফা সুদ বাড়ার প্রত্যাশা ইতিমধ্যেই জোরালো হয়েছে।






