মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছিল। তবে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকচ করার পর আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম।
বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১৪ ডলার বা ১ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ১০৩ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছায়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৭২ ডলারে ওঠে।
চলতি সেপ্টেম্বরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে। এটি গত জুলাইয়ের পর এক মাসে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার হতে পারে।
অন্যদিকে মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ১০৬ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও সেপ্টেম্বরে প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে।
তেলবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া দৈনিক তেল পরিবহনের পরিমাণে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। এ সময় প্রতিদিন গড়ে ৬৫ লাখ থেকে ১ কোটি ২৬ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল পরিবহন হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক দিনের এসব হিসাব এখনো প্রাথমিক। চূড়ান্ত তথ্য পাওয়ার পর পরিবহন করা তেলের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
কেপলারের প্রকাশিত আরেক হিসাবে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ৬৩ লাখ ২৮ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে এটিই সর্বোচ্চ দৈনিক অপরিশোধিত তেল রপ্তানি।
সরবরাহের এই উন্নতিতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করার বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো আন্তর্জাতিক তেলের দামের প্রধান নিয়ামক হয়ে রয়েছে।