প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৩:১৪ পিএম
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে বাসের ভাড়া বেড়েছে। নতুন ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী, ৪০ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ২৫ থেকে ১১৩ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে। এ পথে ভাড়া বেড়েছে ১১৩ টাকা। আর টেকনাফে ১০০, কক্সবাজারে ৮৫ এবং কুয়াকাটায় ৮৮ টাকা বেড়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নতুন ভাড়ার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দূরত্ব ও রুটভেদে ৪০ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৩৫৫ থেকে ১ হাজার ৪৩৫ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫১ আসনের বাসে এ ভাড়া ২৭৮ থেকে ১ হাজার ১২৬ টাকা।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গত ২২ সেপ্টেম্বর দূরপাল্লার বাস এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর দুই দিন পর, ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করে বিআরটিএ।
ঢাকা-পঞ্চগড়ে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি
ঢাকা থেকে উত্তরের সবচেয়ে দীর্ঘ গন্তব্য পঞ্চগড়। বিআরটিএর হিসাবে এ রুটের দূরত্ব ৪৩৮ কিলোমিটার। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ৪০ আসনের বাসে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যেতে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৭৬ টাকা। আগে এ ভাড়া ছিল ১ হাজার ২৬৩ টাকা। অর্থাৎ যাত্রীপ্রতি ভাড়া বেড়েছে ১১৩ টাকা।
৫১ আসনের বাসে পঞ্চগড়ের নতুন ভাড়া ১ হাজার ৮৬ টাকা।
টেকনাফ ও কক্সবাজারেও বড় ধরনের বৃদ্ধি
দক্ষিণের দীর্ঘ রুটগুলোর মধ্যে সায়দাবাদ থেকে টেকনাফের দূরত্ব ৪৬২ কিলোমিটার। ৪০ আসনের বাসে এ পথে নতুন ভাড়া ১ হাজার ৪৩৫ টাকা। আগে ছিল ১ হাজার ৩৩৫ টাকা। ফলে বেড়েছে ১০০ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ১ হাজার ১২৬ টাকা।
সায়দাবাদ থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৩৯৬ কিলোমিটার। এ পথে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ১ হাজার ১৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৩৩ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ বেড়েছে ৮৫ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৯৬৭ টাকা।
চট্টগ্রাম ও সিলেটের ভাড়াও বেড়েছে
ঢাকা-চট্টগ্রাম ২৪২ কিলোমিটার পথে ৪০ আসনের বাসের নতুন ভাড়া ৭৫৭ টাকা। আগে ছিল ৭০৪ টাকা। ফলে বেড়েছে ৫৩ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৫৯৩ টাকা।
ঢাকা-সিলেট রুটের দূরত্ব ২৫৭ কিলোমিটার। ৪০ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৭৯৬ টাকা, যা আগে ছিল ৭৪০ টাকা। অর্থাৎ এ পথে ভাড়া বেড়েছে ৫৬ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৬২৪ টাকা।
সায়দাবাদ থেকে সুনামগঞ্জের ৩০৭ কিলোমিটার পথে ৪০ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৯৫১ টাকা। আগে ছিল ৮৮৪ টাকা। বেড়েছে ৬৭ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৭৪৬ টাকা।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও বেড়েছে ভাড়া
গাবতলী-রাজশাহী রুটে দূরত্ব ২৪৭ কিলোমিটার। ৪০ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৭৯২ টাকা, যা আগে ছিল ৭৩৮ টাকা। অর্থাৎ বেড়েছে ৫৪ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৬২১ টাকা।
গাবতলী-দিনাজপুর রুটের দূরত্ব ৩৩০ কিলোমিটার। এ পথে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ৯৭৮ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৬ টাকা হয়েছে। বেড়েছে ৬৮ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৮২০ টাকা।
গাবতলী-বগুড়া রুটে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ৫৭৯ টাকা থেকে বেড়ে ৬২০ টাকা হয়েছে। ১৯১ কিলোমিটারের এ পথে ভাড়া বেড়েছে ৪১ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৪৮৬ টাকা।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রুটেও বাড়তি ভাড়া
সায়দাবাদ থেকে খুলনার দূরত্ব ২০৫ কিলোমিটার। ৪০ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৭৩৪ টাকা, আগে ছিল ৬৯০ টাকা। ফলে বেড়েছে ৪৪ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৫৭৬ টাকা।
বরিশালের ১৭১ কিলোমিটার পথে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ৫৯২ টাকা থেকে বেড়ে ৬২৯ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ বেড়েছে ৩৭ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৪৯৩ টাকা।
সায়দাবাদ-পটুয়াখালী রুটে দূরত্ব ২১০ কিলোমিটার। ৪০ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৭৭২ টাকা, আগে ছিল ৭২৬ টাকা। বেড়েছে ৪৬ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৬০৫ টাকা।
কুয়াকাটার ২৮০ কিলোমিটার পথে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ৯০৮ টাকা থেকে বেড়ে ৯৯৬ টাকা হয়েছে। ফলে বেড়েছে ৮৮ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ৭৮১ টাকা।
ময়মনসিংহ রুটে ভাড়া বেড়েছে ২৫ টাকা
মহাখালী থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১১৬ কিলোমিটার। এ পথে ৪০ আসনের বাসের নতুন ভাড়া ৩৫৫ টাকা। আগে ছিল ৩৩০ টাকা। অর্থাৎ বেড়েছে ২৫ টাকা। ৫১ আসনের বাসে নতুন ভাড়া ২৭৮ টাকা।
কেন ৪০ আসনের বাসে ভাড়া বেশি
নতুন ভাড়ার হার অনুযায়ী, দূরপাল্লার ৫১ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৪০ পয়সা। সেই হিসাবে যমুনা সেতুর টোলসহ পঞ্চগড় পর্যন্ত ৫১ আসনের বাসের ভাড়া ১ হাজার ৮৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে দূরপাল্লার রুটে অধিকাংশ পরিবহন ৫১ আসনের পরিবর্তে ৪০ আসনের বাস পরিচালনা করে। যাত্রীদের তুলনামূলক বেশি জায়গা ও আরাম দেওয়ার জন্য আসন সংখ্যা কমানো হয়। ফলে বাদ দেওয়া আসনের ভাড়ার একটি অংশ অন্য যাত্রীদের ওপর ভাগ হয়ে পড়ে। এ কারণে ৪০ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৫১ আসনের বাসের তুলনায় বেশি হয়।
এসি বাসের ভাড়া আলাদাভাবে নির্ধারিত
দূরপাল্লার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। পরিবহন কোম্পানিগুলো নিজেদের ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী এসব বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে। ফলে একই রুট ও দূরত্বে বিভিন্ন কোম্পানির এসি বাসের ভাড়ায় পার্থক্য দেখা যায়।
বাসের মান, সেবার ধরন ও পরিবহন কোম্পানির সুনামের ওপর ভিত্তি করে এসি বাসের ভাড়া কমবেশি হয়ে থাকে।
পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার ও ঢাকা-টেকনাফ রুটে ৫১ আসনের বাসের তুলনায় এসি, এসি স্লিপার এবং ৪০ আসনের বাস বেশি চলাচল করে। এসব রুটে আগে এসি বাসে দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হতো। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এসব বাসে প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ৪০ আসনের নন-এসি বাসেও রুটভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।






