প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনীতে। ছবি: পিএমও
আগামী পাঁচ বছরে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
শনিবার রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর্যায় থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত এবারের সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিচ্ছেন। বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিবিদ এতে অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং শক্তিশালী উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় সরকার। বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষি খাতকে অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন এবং কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পানিনিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া ১০০টি লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার মধ্যে ৫৩টি বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। সরকারের লক্ষ্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো এবং মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখা।
আইনের শাসন সব নাগরিকের জন্য সমানভাবে কার্যকর হওয়ার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন জনগণের সেবায় কার্যকরভাবে কাজ করে, সে ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর হিসাবে, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাকে সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারেক রহমান। পাশাপাশি সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান মিয়ানমারেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন একটি যৌথ সমৃদ্ধির অঞ্চলে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরেন তিনি, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিটি দেশই উপকৃত হবে।






