প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৯ এএম
বিশাল অস্ত্রভান্ডারেও হুতিদের কাছে কেন হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব
সৌদি মালিকানাধীন সৌদি আরামকোও হুতিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইয়েমেনের যুদ্ধে রিয়াদ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করায় হুতিরা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালাচ্ছে। ছবি: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬। ০৪:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬। ১৮:২৫ পিএম
দীর্ঘদিন ধরেই পরিবর্তিত যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দিতে অস্ত্রভান্ডার বাড়াতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে সৌদিআরব। কি নেই দেশটির কাছে! প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের মত আধুনিক সব অস্ত্র রয়েছে রিয়াদের ভান্ডারে। আর এসব অস্ত্রের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি।
কিন্তু এত অস্ত্র থাকতেও সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সামলাতে নাকাল হতে হচ্ছে সৌদিকে। চলতি মাসে প্রায় প্রতিদিনই হুতিদের হামলা সৌদি আরবের গভীরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। কাজ করছে না সাইরেন ব্যবস্থা। আতঙ্কে এক প্রাসাদ থেকে আরেক প্রসাদে নিরাপদে থাকতে যাচ্ছেন দেশটির যুবরাজ সালমান।
আর এসবের মধ্যেই রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা করেছে হুতিরা। এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিমানবন্দরটির। হুতিদের এসব হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, বিপুল সামরিক ব্যয়েরও সীমাবদ্ধতা আছে।
মঙ্গলবার হুথি বিদ্রোহীরা বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর ধাহরান সদরদপ্তরে আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরব তুলনামূলকভাবে সফলভাবে নিজেদের রক্ষা করেছিল। কিন্তু সামরিক বিশ্লেষক ও সৌদি বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের মতে, হুতিদের কৌশল ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দেশটি সমস্যায় পড়েছে।
তাদের মতে, কয়েক মাস ধরে ইরানের হামলা ঠেকাতে গিয়ে পুরো অঞ্চলে ‘ইন্টারসেপ্টর’ বা আকাশেই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে ব্যবহৃত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে। এটিও সৌদি আরবের বিশাল ভূখণ্ড রক্ষাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ট্রেন্ডস ইউএস পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং চ্যাথাম হাউসের অ্যাসোসিয়েট ফেলো বিলাল ওয়াই সাব বলেন, “শতভাগ নিখুঁত প্রতিরক্ষা বলে কিছু নেই। কিছু হামলা প্রতিরক্ষা ভেদ করে যাবে, এটা সবসময়ই ধরে নিতে হয়।”
তিনি বলেন, “তবে শুধু জ্বালানি স্থাপনাই নয়, বিমানবন্দরগুলোকেও অবশ্যই সর্বোচ্চ সুরক্ষার আওতায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর তালিকায় রাখা উচিত।”
সাবের মতে, এখানে মূল সমস্যা প্রথমত “হুথিদের কৌশল এবং দ্বিতীয়ত সৌদিদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ব্যর্থতা”।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সৌদি আরব তার মোট দেশজ উৎপাদনের ৬ দশমিক ৫ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ সামরিক খাতে ব্যয় করেছে। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয়ের অনুপাতগুলোর একটি। ২০১৫ সালে এই হার ছিল ১৩ শতাংশ পর্যন্ত।

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সেনারা। ছবি: এএফপি
সেই বছর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সহায়তা করতে একটি সামরিক জোট পাঠান। পরবর্তী কয়েক বছর সৌদি আরব সেই সংঘাতে আটকে থাকে।
বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তারা ব্যাপক ও ব্যয়বহুল বিমান অভিযান চালায়। এই গৃহযুদ্ধকে জাতিসংঘ একসময় বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবসৃষ্ট মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি হয়।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শুরুতে ইরানি হামলা ঠেকাতে বেশ কার্যকর বলেই মনে হয়েছিল। অনেক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রথমে টিকে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়।
জুলাইয়ে হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার একটি বিমানবন্দরের রানওয়েতে সৌদি আরব হামলা চালায়। রিয়াদ বলেছিল, একটি ইরানি উড়োজাহাজের অবতরণ ঠেকানোই ছিল এর উদ্দেশ্য। এরপর হুতিরা সৌদি জাহাজের ওপর অবরোধ ঘোষণা করে, লোহিত সাগরের উপকূল দখলের অভিযান শুরু করে এবং সৌদি জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায়। এতে দেশটির তেল রপ্তানিও ব্যাহত হয়।
ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের চালানো পৃথক আরেক হামলার কারণে সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট জ্বালানি পাইপলাইনও সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছিল। চলতি মাসে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি জোট পাল্টা অভিযান ঘোষণার পর হুতিরা সৌদি বিমানবন্দরগুলোর ওপর হামলা আরও তীব্র করে। ফলে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।
শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে চালানো হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ আহত হন। প্রায় এক দশকের মধ্যে এ ধরনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তবে সৌদি কমান্ডারদের হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বহু বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সৌদি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, সমস্যাটি দক্ষতার অভাব নয়।
পরামর্শক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেয়ার মার্শাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডেভিড দে রোশ সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি রয়্যাল সৌদি এয়ার ডিফেন্স ফোর্সের নেতৃত্বের সঙ্গে অনেক সময় কাজ করেছি।” তাদের তিনি “অসাধারণ দক্ষ” বলে বর্ণনা করেন।
বরং সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বহু বছরের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ফলে হুতিরা এখন আধুনিক রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কীভাবে ভেদ করতে হয়, সে বিষয়ে অনেক বেশি দক্ষ হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে চার বছরের যুদ্ধবিরতিও তাদের পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহের সুযোগ দিয়েছিল; ইরানের সহায়তায়।
হামলাগুলো সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, হুথিরা প্রথমে ড্রোন ব্যবহার করেছে সম্ভবত সামাদ-২ বা সামাদ-৩ মডেলের দীর্ঘপাল্লার স্থির-পাখার আক্রমণকারী ড্রোন। এর উদ্দেশ্য ছিল সৌদি ইন্টারসেপ্টরগুলোর কার্যকর পাল্লা বুঝে নেওয়া। এরপর তারা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ইরানের কুদস-৪ ক্ষেপণাস্ত্রের ভিত্তিতে তৈরি।
ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলক নিচ দিয়ে ধীরগতিতে উড়তে পারে। আবার মাঝপথে গতিপথও বদলাতে পারে। ফলে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। ওই ব্যক্তি একে বর্ণনা করেন, “ভাগ্য আর কৌশলের মিশ্রণ” হিসেবে।

হুতি মিডিয়া সেন্টারের সরবরাহ করা ভিডিও থেকে নেওয়া একটি স্ক্রিনশটে, ভূপাতিত সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করছেন হুতি যোদ্ধারা। ছবি: এএফপি
ওয়াশিংটনভিত্তিক বাশা রিপোর্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, “এখন যা দেখা যাচ্ছে, তা থেকে বোঝা যায় হুথিরাও মূল্যবান যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জন করছিল।”
তিনি বলেন, “ব্যর্থ হামলা থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছে, কৌশল পরিবর্তন করেছে এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার সক্ষমতা বাড়িয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইরান এবং তার আঞ্চলিক মিত্ররা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, হুতিরাও সেখান থেকে সুবিধা পেয়েছে। এই সংঘাতগুলোর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও ছিল।
বাশা বলেন, “হুথি ও তাদের ইরানি সমর্থকেরা পশ্চিমা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার শক্তি ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে দু-একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল শিখে নিয়েছে।”
শক্তিশালী প্রতিরক্ষা, কিন্তু সীমিত ইন্টারসেপ্টর
সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যাপক। এর মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ও থাড ব্যবস্থা, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, রাডার নেটওয়ার্ক, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সরঞ্জাম এবং এমনকি চীনে তৈরি ‘স্কাই শিল্ড’ কাউন্টার-ড্রোন ফাইবার-অপটিক লেজার অস্ত্রও।
কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কতটা আছে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য গোপন রাখা হয়।
ফেব্রুয়ারি থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ব্যাপক হারে প্যাট্রিয়ট ও থাড ব্যবহার করেছে।
বর্তমান মজুতের প্রকৃত পরিমাণ গোপন হলেও, তা যে অনেকটাই কমে গেছে; এ বিষয়টি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠতম মিত্রদেরও সতর্ক করেছে যে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহে তীব্র সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ ওয়াশিংটন নিজস্ব সামরিক প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
অধ্যাপক ডেভিড দে রোশ বলেন, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষার ওপর আরও চাপ পড়ছে। কারণ এখন একই সঙ্গে পূর্ব দিক থেকে ইরান এবং দক্ষিণ দিক থেকে হুথিদের হুমকি বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। তার ভাষায়, এর অর্থ হলো, “আপনাকে কার্যত বাহিনী অর্ধেক করে ভাগ করতে হচ্ছে।”
লন্ডনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক রবার্ট টোলাস্ট বলেন, যথেষ্ট পরিকল্পনা করতে পারলে হুতিরা একসঙ্গে এত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে যে অত্যন্ত সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুর প্রতিরক্ষাও চাপে পড়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, “সৌদিরা এখন ইউক্রেনীয়, ইসরায়েলি কিংবা আমেরিকানদের মতো একই পরিস্থিতিতে রয়েছে। এই ইন্টারসেপ্টরগুলোর উৎপাদনে স্পষ্টভাবেই চাপ রয়েছে এবং কাকে আগে সরবরাহ করা হবে, সেই অগ্রাধিকার ঠিক করাও কঠিন।”
টোলাস্ট আরও বলেন, ইসরায়েলের তুলনায় সৌদি আরবকে রক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন। কারণ বিশাল ভূখণ্ডজুড়ে ছড়িয়ে আছে সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও শহর। কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কই এত বড় একটি ভূখণ্ড পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখতে পারে না।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বাহরাইনভিত্তিক গবেষক সাশা ব্রুখমান বলেন, সৌদি আরবজুড়ে হুতিদের হামলা আসলে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সম্পদকে ‘পাতলা’ বা ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশলের অংশ।
তিনি বলেন, বিদ্রোহীরা “টানা কয়েক দিন এমন একটি স্থানে হামলা করবে, যা আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ না আপনি সেখানে সীমিত প্রতিরক্ষা সম্পদ সরিয়ে আনেন।” এরপর তারা লক্ষ্য করে, “সেই সম্পদ কোথা থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে।”
ব্রুখমান বলেন, “তারা আপনাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে, আপনাকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরাতে বাধ্য করছে, তারপর আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্য কোথাও হামলা করছে।”
ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে উৎসস্থল ধ্বংসের প্রয়োজন
টোলাস্ট বলেন, এই মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে হলে হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার ভেতরেই উৎক্ষেপণযন্ত্র ধ্বংস করতে হবে। এর জন্য একদিকে প্রয়োজন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও দীর্ঘমেয়াদি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ। অন্যদিকে সৌদি আরবের বিশাল এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বহরকে ব্যবহার করে উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালাতে হবে। অনেকটা যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান আকাশ থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র খুঁজে বের করে হামলা চালিয়েছে।
টোলাস্ট বলেন, “মূলত এটি ‘হোয়্যাক-আ-মোল’ খেলার মতো।” অর্থাৎ একটি উৎক্ষেপণযন্ত্র ধ্বংস করলে আরেকটি অন্য জায়গায় দেখা দেয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাপক স্যাটেলাইট নজরদারি ও ড্রোন ব্যবহারের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি।
ধারণা করা হয়, ইয়েমেনের পাহাড়ি উত্তরাঞ্চলজুড়ে হুতিদের বিস্তৃত গুহা ও টানেলের নেটওয়ার্ক রয়েছে। এর মধ্যে কিছু প্রাকৃতিক, কিছু মানুষের তৈরি। বছরের পর বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার পরও তারা টিকে আছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণও তারা সহ্য করেছে।
মিত্রদের সহায়তা চাইছে সৌদি আরব
সৌদি আরব এখন মিত্রদের কাছেও সহায়তা চাইছে। ফ্রান্স গত মাসে জানিয়েছে, ইয়ানবু তেল টার্মিনাল সুরক্ষায় তারা সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠাবে।
যুক্তরাজ্যও ইয়েমেনে “সৌদি প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমে সহায়তা” করতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি ভয়েজার আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
সৌদি আরবের ওপর হামলা তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিকেও পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। চলতি মাসে তিন দেশ জানিয়েছিল, তারা “সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয়” করতে একমত হয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবে সেনা ও সামরিক প্রশিক্ষক পাঠিয়ে আসছে। এপ্রিলে পাকিস্তান সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান ও পাইলটও পাঠিয়েছে।
তুরস্ক জানিয়েছে, তারা “সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা” সরবরাহ করছে। তবে এর মধ্যে তুর্কি স্থলসেনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না।

ছবি: বাংলাবাজার ক্রিয়েটিভ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র কতটা পাশে
এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে কম প্রতিশ্রুতিশীল বলে মনে হচ্ছে। গত মাসে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্য মন্তব্যে প্রেসিডেন্ট অস্পষ্ট অবস্থান বজায় রেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে রিয়াদে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এখনো গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিচ্ছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ব্রজেজিনস্কি চেয়ার ইন গ্লোবাল সিকিউরিটি অ্যান্ড জিওস্ট্র্যাটেজির জন অল্টারম্যান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী পক্ষের বিরুদ্ধে দুর্বল পক্ষকে রক্ষার কাজ করেছে। কিন্তু দুর্বল পক্ষের বিরুদ্ধে শক্তিশালী পক্ষকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কবে শেষবার দেখা গেছে, তা মনে করা কঠিন।”
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব অনেকটা এমন, “এটা তোমাদের কাজ।”
তথ্যসূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস


-6ad07fdcc01bc.jpg)



