প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিচারকাজ কারাগার থেকেই ভার্চুয়ালি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জিয়াউল আহসান। ওই দিন তার আইনজীবী আদালতে আবেদন জানান, তাকে আলাদা প্রিজন ভ্যানে আনা-নেওয়ার পরিবর্তে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই গাড়িতে পরিবহন করা হোক।
ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে নিজের নিরাপত্তার আশঙ্কার বিষয়টি বিচারকদের সামনেও তুলে ধরেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।
তবে জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে একমত হলেও তাকে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে পরিবহনের আবেদনে আপত্তি জানায় প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের যুক্তি ছিল, জিয়াউল আহসানকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে একই গাড়িতে থাকা অন্য আসামিদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ কারণে তাকে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে হাজির না করে কারাগারে রেখেই অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিচারকাজে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে আবেদন জানানো হয়।
মঙ্গলবার সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গাজী এম এইচ তামীম।
তিনি বলেন, ‘আজ থেকে জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি ট্রাইব্যুনালে হাজির করে মামলার বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি।’
কারাগার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মধ্যে অডিও-ভিজ্যুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানি পরিচালনার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান এই কৌঁসুলি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে জিয়াউল আহসান কারাগারে অবস্থান করেই ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও আইনজীবীদের বক্তব্য সরাসরি শুনতে পারবেন এবং ভার্চুয়ালি বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
ভার্চুয়াল বিচারকাজের নজির তুলে ধরে গাজী এম এইচ তামীম বলেন, ‘কোভিডকালেও ভার্চুয়ালি বিচারকাজ পরিচালিত হয়েছে।’
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জিয়াউল আহসানকে অন্য আসামিদের সঙ্গে না এনে পৃথক প্রিজন ভ্যানে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছিল।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ছাড়াও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা রয়েছে।





