Logo
Logo
×

খবর ।  রাজনীতি

আত্মরক্ষায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে ব্যাখ্যা ইশরাকের

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ০৩:৪৮ পিএম

আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ১৮:১২ পিএম

আত্মরক্ষায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে ব্যাখ্যা ইশরাকের

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ার ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তার দাবি, মাদক কারবারিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন তিনি। অস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আইনি কাঠামোর মধ্যেই তা প্রদর্শন করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী একটি কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। পরে তার ফেসবুক পেজে অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করা হলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকেও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে ইশরাকের দাবি, এটি কোনো একক অভিযান ছিল না। সাধারণ নাগরিক, পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার দাবি

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, ঢাকা-৬ আসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলাসহ আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ পেয়ে আসছিলেন তিনি।

তার দাবি, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এলাকাটি মাদক কারবারিদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।

গত জুনে মাদকসংক্রান্ত একটি সহিংস ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশের জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় আধা সরকারি পত্র বা ডিও লেটার পাঠান।

তবে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

শনিবারের কর্মসূচির বিষয়ে ইশরাকের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে সম্ভাব্য হামলার তথ্য পেয়েছিলেন তিনি।

তাকে জানানো হয়েছিল, মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে।

প্রতিমন্ত্রীর দাবি, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করতে করতে তাদের গাড়িবহরের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন।

এ পরিস্থিতিতে নিজের এবং সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

ইশরাক বলেন, ‘এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।’

তার দাবি, সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়।

অস্ত্রের বৈধতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী কেবলই আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।’

তবে অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা পুলিশের তদন্তে নির্ধারিত হবে।

চার-পাঁচটি আস্তানা উচ্ছেদ ও ছয়জনকে আটকের দাবি

অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে ইশরাক হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানার পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

এরপর পুলিশের সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এসব আস্তানা থেকে মাদকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

একই সঙ্গে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান ইশরাক।

এর আগে গেন্ডারিয়া থানার পুলিশও ছয়জনকে থানায় নিয়ে আসার তথ্য জানিয়েছিল।

তবে অভিযানে উদ্ধার হওয়া সব সামগ্রীর বিস্তারিত তালিকা এবং সেগুলোর প্রকৃতি সম্পর্কে পুলিশের চূড়ান্ত যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ পরিবেশনা নিয়ে ক্ষোভ প্রতিমন্ত্রীর

অভিযানের ভিডিও প্রকাশের পর গণমাধ্যমে আসা সংবাদ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইশরাক হোসেন।

তার অভিযোগ, কয়েকটি সংবাদমাধ্যম অভিযানের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে না ধরে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে থাকার কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দাবি, এ ধরনের সংবাদে অভিযানের মাধ্যমে মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ, পুলিশের অংশগ্রহণ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবি এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও বা স্থিরচিত্র দিয়ে পুরো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যায় না।

তার অভিযোগ, খণ্ডিত তথ্য প্রচারের কারণে অভিযানে তার ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব বক্তব্য। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিক্রিয়া ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, খতিয়ে দেখছে ডিএমপি

এদিকে প্রতিমন্ত্রীর আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

রবিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপকমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখনও এটা মূল্যায়নের সময় আসেনি। আপনারা যেটা দেখেছেন, আমরাও দেখেছি।’

ডিবিপ্রধান জানান, স্থানীয় উপকমিশনার পুরো ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন জমা দেবেন। সেখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ডিএমপি আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

একজন প্রতিমন্ত্রী পুলিশের মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।

অন্যদিকে নিজের বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, জনস্বার্থে মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন তিনি।

ফলে গেন্ডারিয়ার ঘটনাকে ঘিরে প্রতিমন্ত্রীর আত্মরক্ষার দাবি এবং অস্ত্র ব্যবহারের আইনগত বৈধতা—দুটি বিষয়ই এখন আলোচনায় রয়েছে। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে