Logo
Logo
×
সৌদিতে হুতিদের হামলা: মক্কা চুক্তির পর প্রথম পরীক্ষায় পাকিস্তান

সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুতিদের হামলা একটি নতুন ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির সীমাবদ্ধতাগুলোকে উন্মোচিত করেছে। ছবি: বাংলাবাজার ক্রিয়েটিভ

ইনসাইট ।  বিশ্লেষণ

সৌদিতে হুতিদের হামলা: মক্কা চুক্তির পর প্রথম পরীক্ষায় পাকিস্তান

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৮:২৫ পিএম

আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৫:২৩ পিএম

ইসলামাবাদ থেকে একেক সময় একেক রকমের বার্তা আসায় প্রশ্ন উঠেছে যে পাকিস্তান কি সৌদি আরবের চাপে পড়ে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ব্যবহার করবে আর ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়বে।

খুব ঢাকঢোল পিটিয়ে সই করা মক্কা চুক্তি এক মাসের মাথায় বড় একটা পরীক্ষার মুখে পড়েছে। যুদ্ধ যখন সৌদি সীমান্তে পৌঁছে গেছে এবং মিসাইল ও ড্রোন সৌদি ভূখণ্ডে গিয়ে পড়ছে, তখন পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে। অন্যদিকে তুরস্ক এই সামরিক জোটের পক্ষ নিলেও সরাসরি কোনো সেনা পাঠানোর মতো ঘোষণা দেয়নি।

সমালোচকরা বলছেন, ইয়েমেনের হুতিদের পাল্টা হামলা ঠেকাতে চুক্তিটি একদম অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটা তুরস্ক, সৌদি আরব আর পাকিস্তানের মধ্যকার নতুন জোটকে দুর্বল করার চেষ্টা।

তবে একটি সদস্য দেশ যখন চলমান যুদ্ধে আক্রমণের শিকার হলো, তখন যৌথ জবাব না থাকা দেখে চুক্তির প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে।

সৌদি আরবের মক্কায় গত ৭ আগস্ট যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (মধ্যে), তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান (বামে) ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ছবি: এএফপি

ইসলামাবাদের সীমারেখা

সৌদি আরব যখন দাবি করে, তারা মক্কার দিকে আসা হুতিদের একটি ড্রোন ধ্বংস করেছে, তখন পাকিস্তানের অবস্থান আরো কঠোর হয়।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ইসলামাবাদের দায়িত্ব নিয়ে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা নেই। তিনি জানান, মক্কা চুক্তি তাদের জন্য প্রযোজ্য এবং তারা নিজেদের কর্তব্য পালন করবেন। তবে সামরিক জবাবের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখেন।

আসিফ আরো বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে এবং ইসলামের পবিত্র স্থানগুলো রক্ষা করা পাকিস্তানের জন্য চুক্তির বাইরেও একটি নিজস্ব দায়িত্ব। তিনি যোগ করেন, মক্কায় আক্রমণ হলে তা রক্ষার জন্য কোনো চুক্তির দরকার পড়ে না।

তার এই বক্তব্য এক সপ্তাহ আগে দেওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থানের চেয়ে আলাদা ছিল।

গত ১০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, কোনো সামরিক পদক্ষেপের বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।

মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেছিলেন, এই মুহূর্তে এরকম কোনো কথা হচ্ছে না। সময় এলে তারা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করবেন।

বল নিউজের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জহির শাহ শেরাজি দ্য ক্রেডেলকে জানান, সৌদির তেল সম্পদে হুতিদের হামলার জবাবে পাকিস্তান কোনো সামরিক হামলা চালাবে না বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ ও পররাষ্ট্র দপ্তর এই ধরনের কথা একদম সত্যি নয় বলে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে।

ইসলামাবাদ হয়তো সৌদি আরবকে শুধু প্রতিরক্ষামূলক সাহায্য দেবে, যেমন গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করা, সামরিক অবকাঠামো তৈরি, সীমান্ত পাহারা দেওয়া আর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো রক্ষা করা।

এই অবস্থান থেকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের কঠিন পরিস্থিতির কথা পরিষ্কার বোঝা যায়।

রিয়াদের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সামরিক ও আর্থিক সম্পর্ক আছে, কিন্তু তারা প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে শত্রুতা বা ইয়েমেনের সঙ্গে নতুন ঝামেলা নিতে পারবে না। সীমান্ত পার হয়ে আক্রমণ না চালিয়ে শুধু সৌদি ভূখণ্ড রক্ষা করার মাধ্যমেই ইসলামাবাদ তাদের অবস্থান ঠিক রাখতে পারে।

সৌদি আরবের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে হামলা বাড়ায় মুনির ইরান ও সৌদি আরব দুই দেশের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সবাইকে সংযত থাকতে বলেছেন। আগস্টে তেহরান সফরের সময় তিনি যুদ্ধের ব্যাপ্তি যেন না বাড়ে সেজন্য ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে দেখা করেন।

ইসলামাবাদ তেহরানকে আনসারুল্লাহর ওপর প্রভাব খাটানোর জন্য অনুরোধ করেছে, আবার একই সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে রিয়াদের সঙ্গে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে। এর ফলে পাকিস্তান যুদ্ধের দিকে না গিয়ে কূটনৈতিকভাবে চুক্তি রক্ষা করার চেষ্টা করছে বলে দেখাতে পারছে।

শেরাজি বলেন, পাকিস্তান চেষ্টা করছে ইরান আর সৌদি আরবের মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখতে, কারণ প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে তারা কোনোভাবেই শত্রুতা করতে পারবে না। বিশেষ করে ইরান যখন ইসলামাবাদকে সতর্ক করতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াচ্ছে। তার মতে, পাকিস্তান বাস্তবে রিয়াদকে সর্বোচ্চ তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় সাহায্য করতে পারে।

শেরাজি আরো জানান, প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি পালনের জন্য পদে পদে চাপ থাকলেও তেহরানের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ইসলামাবাদ বড় যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করবে। সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের কোনো মূল্য থাকবে না, আর তাদের পশ্চিম সীমান্তে নতুন করে ঝামেলা তৈরি হবে।

অস্পষ্টতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা চুক্তি

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের সাবধানী বক্তব্য আর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পরের ঘোষণার মধ্যে ফারাক দেখে বোঝা যায়, চুক্তি কার্যকর হলেই যে পাকিস্তান সরাসরি পদক্ষেপ নেবে তা বলা যায় না। কীভাবে আক্রমণ শুরু হয়েছে, সেটা কি প্রতিশোধমূলক হামলা কি না, আর যৌথ প্রতিরক্ষা বলতে কে কী বুঝছে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের সাবেক সিনেটর স্কোয়াড্রন লিডার (অবসরপ্রাপ্ত) নোমান ওয়াজির দ্য ক্রেডেলকে বলেন, চুক্তিতে অনেক ফাঁকফোকর আছে যা ব্যবহার করে পাকিস্তান সামরিক ঝামেলা থেকে বেঁচে যেতে পারে, যদি চুক্তির কোনো দেশ আগে হামলা করে পাল্টা আক্রমণের শিকার হয়। কোনো উসকানি ছাড়া হামলা হলেই কেবল যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার নিয়ম এখানে রাখা হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে নতুন করে ভারী বিমান হামলা শুরু করেছিল, যার পর ইয়েমেনি বাহিনী ও সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের মধ্যে যুদ্ধ আরো বাড়ে। এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর সানা থেকে আবহা, জিজান, খামিস মুশাইত ও নাজরানে ড্রোন এবং মিসাইল হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় বেসামরিক এলাকা ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত এবং নারী ও শিশুসহ ৭৩ জন আহত হয় বলে সৌদি আরব কতৃ‍র্পক্ষ।

এরপর ইয়েমেনের ভেতরে সৌদি জোটের আরো বিমান হামলা চলে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এসে সংঘর্ষ আরো বাড়ে এবং একে অপরের ওপর হামলা চালানোর কারণে চুক্তির ভাষা নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়।

মূল প্রশ্ন হচ্ছে, চুক্তির কোনো সদস্য দেশ যদি আগে আক্রমণ করে আর তার জবাবে অন্য দেশ আক্রমণ করে, তবে চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যবাধকতা আছে কি না। মূল চুক্তির লেখায় এর কোনো স্পষ্ট জবাব নেই, আবার এই ব্যাপারে কী নিয়ম মানা হবে তাও দেশগুলো গোপন রেখেছে।

মক্কা চুক্তিতে আসলে কী আছে

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট মক্কায় এই তিন পক্ষীয় চুক্তিতে সই করে। ন্যাটোর ৫ নম্বর ধারার মতো এখানে বলা হয়েছে, একটি দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা বাকি দুই দেশের ওপর হামলা বলে গণ্য হবে। তবে যৌথ বিবৃতিতে কোনো দেশের সামরিক দায়িত্বের সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দেওয়া হয়নি বা সরাসরি সামরিক জবাব দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

এর বদলে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের মধ্যে সমন্বয় করার জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক একটা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। যৌথ মহড়া, আকাশ প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধে সহযোগিতা বাড়ানো এবং ড্রোনসহ নতুন সামরিক প্রযুক্তি তৈরি করা এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য।

ওয়াজির বলেন, চুক্তির প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো ন্যাটোর ৫ নম্বর ধারার আদলে করা হলেও যেকোনো পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে না হয়ে পর্যবেক্ষণ টিমের সমন্বয়ের মাধ্যমে হবে। চুক্তিতে পরমাণু প্রযুক্তি শেয়ার করার কোনো কথা উল্লেখ নেই, তাই তুরস্ক বা সৌদি আরবকে পরমাণু সুরক্ষার সুবিধা দিতে পাকিস্তান বাধ্য নয়।

ওয়াজির আরো ব্যাখ্যা করে বলেন, সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ফাইন্যান্সিয়াল ও এনার্জি সাপোর্ট দেবে, যেখানে এই প্রতিরক্ষার স্থায়ী সেক্রেটারিয়েট থাকবে। তুরস্ক দেবে নতুন উন্নত প্রযুক্তি, ড্রোন আর যুদ্ধজাহাজ। অন্যদিকে পাকিস্তান তাদের দক্ষ সৈন্য ও সামরিক বাহিনীর মানুষজন সরবরাহ করবে।

পাকিস্তান ইতিমধ্যেই সৌদি আরবে হাজার হাজার সৈন্য, বিমান, ড্রোন ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পাঠিয়েছে। এসবের মাধ্যমে ইয়েমেনে সেনা না পাঠিয়েও পাকিস্তান খুব সহজে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সক্ষম হচ্ছে।

মুনিরের বাড়তি সামরিক ক্ষমতা

চুক্তি নিয়ে এই আলোচনার সময় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের ডিফেন্স ফোর্সেস অব পাকিস্তান অ্যাক্টের মাধ্যমে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বা সিডিএফ পদ তৈরি করা হয়েছে এবং মুনিরকে সেনাপ্রধান রাখার পাশাপাশি স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান করা হয়েছে।

নতুন এই পদের মাধ্যমে একজন কমান্ডারের হাতেই তিন বাহিনীর পুরো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগের জয়েন্ট চিফস ব্যবস্থার বদলে এটি আনা হয়েছে, যেখানে আগে শুধু সমন্বয় করা হতো কিন্তু সরাসরি আদেশ দেওয়া যেত না। সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে স্থল, আকাশ, সমুদ্র, সাইবার ও ড্রোন হামলা সমন্বিতভাবে চালানো যাবে আর যেকোনো সংকটে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র দ্য ক্রেডেলকে জানায়, গত বছরের সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সিডিএফ পদ তৈরির যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, এই আইনটি তার আইনি ভিত্তি দিয়েছে। তাছাড়া এক ছাতার নিচে কমান্ড ও কেনাকাটার ব্যবস্থা চলে আসায় মক্কা চুক্তি কার্যকর করা আরো সহজ হয়েছে।

ওই সূত্র আরো জানান, নতুন সমস্যা তৈরি হওয়ার আগেই পাকিস্তানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন সৌদি আরবে উপস্থিত ছিল। রিয়াদের আর্থিক সহযোগিতার কারণে তাদের সরাসরি মানা করা পাকিস্তানের জন্য বেশ কঠিন। সিডিএফ হিসেবে মুনির এখন আলাদা আলাদা বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা না করে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন।

তবে কাজ করার ক্ষমতা থাকাটাই সব নয়। ইয়েমেনে হামলা চালানোর যেকোনো সিদ্ধান্ত দেশে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের সংসদ সৌদি জোটের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দিতে মানা করেছিল। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, সন্ত্রাসবাদ আর অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তান নতুন করে আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়াতে একদমই রাজি নয়।

ইরানের কাছের কোনো শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে গেলে বেলুচিস্তান ও পশ্চিম সীমান্তে আবার সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাই পাকিস্তানের জবাবটা খুব মেপে মেপে দেওয়া হচ্ছে। তারা তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে, সৌদির এয়ার ও মিসাইল ডিফেন্স আরো শক্তিশালী করতে পারে, গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদান বাড়াতে পারে এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির সুরক্ষায় সাহায্য করতে পারে, কিন্তু নিজেদের সৈন্যদের ইয়েমেনে পাঠাবে না।

আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না হলে পাকিস্তানের সরাসরি হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যাওয়ার সুযোগ নেই। তারা সৌদি সীমান্ত রক্ষা, তথ্য আদান প্রদান ও জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, তবে ইয়েমেনে কোনো বোমাবর্ষণ করবে না।

এখনকার মতো এই কৌশলের মাধ্যমেই পাকিস্তান একদিকে রিয়াদকে সন্তুষ্ট রাখতে পারছে, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে মক্কা চুক্তিকে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ঘোষণা হওয়া থেকে বাঁচাচ্ছে।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে