Logo
Logo
×
বিপর্যয়ের আশঙ্কা সত্ত্বেও এআইয়ের উন্নয়ন গতি কমাতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

এআই নিয়ে বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। ছবি: এআই

লাইফস্কেপ ।  বায়োম

বিপর্যয়ের আশঙ্কা সত্ত্বেও এআইয়ের উন্নয়ন গতি কমাতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৫:৫৫ পিএম

আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ২০:০৩ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়নের গতি কমিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন প্রযুক্তি খাতের অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি। তাঁদের আশঙ্কা, মানবজাতির নিরাপত্তার স্বার্থে এআই উন্নয়নে সাময়িক বিরতি কিংবা আন্তর্জাতিক সমন্বয় জরুরি। তবে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে নেতৃত্ব দেওয়া দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত দেয়নি যে তারা এআই উন্নয়নের গতি কমাতে যাচ্ছে।

কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—দুই দেশই এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মধ্যেই প্রযুক্তি খাতের নির্বাহী ও গবেষকেরা মানবজাতিকে ভয়াবহ এমনকি অস্তিত্বগত ঝুঁকি থেকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ওয়াশিংটন ডিসিতে এ বছর তৃতীয়বারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। তবে এআই নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বৈঠক থেকে কোনো উদ্যোগ এলেও তা সমন্বিতভাবে এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বানের তুলনায় অনেক কম হবে।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর চায়না অ্যানালাইসিসের জ্যেষ্ঠ ফেলো আলভিন ওয়াং গ্রেলিন বলেন, বিশ্বের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণাগার এবং মানুষ যেসব মডেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার ও ডাউনলোড করে, তার বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে রয়েছে।

তিনি বলেন, নিরাপদ এআই নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্মত হওয়া কিছু মৌলিক সুরক্ষা-ব্যবস্থা প্রায় অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, “এক পক্ষের মডেলকে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করলে সমস্যার অর্ধেকই কেবল সমাধান হবে।”

পারস্পরিক অবিশ্বাস বড় বাধা

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং এআই থেকে প্রধান ঝুঁকি কী—এ বিষয়ে দুই দেশের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সহযোগিতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্প এআই নিয়ে উদ্বেগকে “ষড়যন্ত্র” হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, তাঁর নেতৃত্বে এআই খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। বরং চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, বিশ্বশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ধরে রাখতে এআই-তে নেতৃত্ব দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণেও তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। এআই নিয়ন্ত্রণে কোনো “বিশ্বায়নপন্থী পরিকল্পনা” যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, চীন এআই নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলকভাবে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে। চলতি মাসে দেশটি এআই নিরাপত্তা কাঠামোর তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছে। তবে এআই থেকে মানবজাতির অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—সিলিকন ভ্যালির এমন আশঙ্কাকে চীনও প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একে “ভয় ছড়ানো” বলে অভিহিত করেছে।

চীনা কর্মকর্তারা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মূলত সাইবার নিরাপত্তা এবং ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কর্তৃত্বের মতো তুলনামূলকভাবে বাস্তব ও রাজনৈতিক ঝুঁকি।

চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী চেন ইশিন চলতি মাসে প্রকাশিত এক বিরল প্রবন্ধে সতর্ক করে বলেন, “শত্রুতাপূর্ণ শক্তিগুলো” এআই ব্যবহার করে “রাজনৈতিক গুজব ছড়াতে” এবং “বিরোধী মনোভাব উসকে দিতে” পারে। এর ফলে “রাজনৈতিক নিরাপত্তা, প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ও আদর্শিক নিরাপত্তা” হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির ফেলো সান চেংহাও বলেন, চীন ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ হারানো, অপব্যবহার ও সাইবার ঝুঁকির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে চীনের কাছে আরও বড় উদ্বেগ হলো, “এআই নিরাপত্তা”র অজুহাতে চীনের চিপ, কম্পিউটার বা বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হতে পারে।

সান বলেন, “সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—দুই পক্ষ প্রকৃত নিরাপত্তা সহযোগিতাকে বৃহত্তর প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা থেকে আলাদা করতে পারে কি না।”

তিনি আরও বলেন, “যদি প্রতিটি নিরাপত্তা আলোচনার সঙ্গে চীনের প্রযুক্তি উন্নয়ন ধীর করা বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যুক্ত থাকে, তাহলে বেইজিং স্বাভাবিকভাবেই সহযোগিতার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।”

এআই নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতা কতটা?

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আলোচিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের মধ্যে একটি সংলাপ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন এআই-সংক্রান্ত ঘটনার তথ্য জানানোর একটি ব্যবস্থা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ ইতিবাচক প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে। তবে বড় ঝুঁকি এড়াতে হলে কোন ধরনের এআই সক্ষমতা বা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়া উচিত—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে আরও স্পষ্ট সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।

তবে এআই খাতেই প্রযুক্তিটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত—এ নিয়ে কোনো ঐকমত্য নেই। এমনকি সরকারের নেতৃত্বে এআইয়ের ওপর নজরদারি আদৌ প্রয়োজন কি না, তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের মতো এআই খাতের নেতারা উন্নয়নের গতি কমানো ও কঠোরতর নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এসব আহ্বানও যথেষ্ট নয়; বরং এআই উন্নয়ন পুরোপুরি স্থগিত করা উচিত।

মন্ট্রিয়ল বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডেভিড ক্রুগার বলেন, “আন্তর্জাতিক সমন্বয় একেবারেই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শুধু নিরাপত্তাব্যবস্থা নয়, আরও কিছু প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “ফ্রন্টিয়ার এআই উন্নয়নে অবিলম্বে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তর্জাতিক স্থগিতাদেশ প্রয়োজন।”

তবে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এবং মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বরা বাইরের কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেননি। বরং তাঁরা সমাজে এআইয়ের সম্ভাব্য ইতিবাচক ও রূপান্তরমূলক ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন।

‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ নিয়ে উদ্বেগ

এআই উন্নয়নের দ্রুত গতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অনেকেই “রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট”কে একটি সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। এর অর্থ হলো—এআই মডেল নিজেই নিজের সক্ষমতা উন্নত করতে শেখে।

চলতি মাসে এআই খাতকে উন্নয়নের গতি “নিয়ন্ত্রণে” রাখার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রবন্ধ লেখেন অ্যামোডেই। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই উন্নয়নের গতি “উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত” করার বিষয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানান।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এমন কোনো চুক্তি করা কঠিন হতে পারে। কারণ কোনো একটি পক্ষ যদি চুক্তি ভঙ্গ করে, তাহলে তারা বিশ্বব্যাপী শক্তির ভারসাম্য নিজেদের পক্ষে নিয়ে যেতে পারে।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এক্সিস্টেনশিয়াল রিস্ক অবজারভেটরির পরিচালক অটো বার্টেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে এআইয়ের এমন কিছু সক্ষমতা নিয়ে সীমারেখা নির্ধারণ করতে হবে, যা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এআইকে কখনোই রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্টের মতো সক্ষমতার পর্যায়ে যেতে দেওয়া যাবে না।”

তিনি বলেন, “ক্রমাগত আরও বুদ্ধিমান এআই নিজেদের আরও বুদ্ধিমান এআই তৈরি করতে থাকলে এবং সেখানে মানুষের কোনো তদারকি না থাকলে সেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াচক্র কোথায় গিয়ে থামবে এবং শেষ পর্যন্ত এসব এজেন্ট কী করতে সক্ষম হবে—তা আমরা জানি না।”

ওয়াং গ্রেলিনের মতে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের উচিত কোন ধরনের এআই সক্ষমতাকে “অগ্রহণযোগ্য সক্ষমতা” হিসেবে বিবেচনা করা হবে, সে বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো। পাশাপাশি ফ্রন্টিয়ার মডেল পরীক্ষা করার জন্য একটি অভিন্ন মানদণ্ড তৈরি করা প্রয়োজন।

তাঁর মতে, একাধিক দেশের অর্থায়নে পরিচালিত একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে এমন পরীক্ষা পরিচালনা করা গেলে তা সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

তবে ওয়াং গ্রেলিন স্বীকার করেন, দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস এ ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা হয়তো মনে করতে পারেন, এমন কোনো চুক্তি বাস্তবে যাচাই করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “দেখতে পাওয়া যায় না এমন সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে যাচাই করা কঠিন।”

নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা আলাদা করার আহ্বান

সান চেংহাও বলেন, এআই নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মার্কিন নীতির মধ্যে আরও স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করলে ওয়াশিংটন সহযোগিতার পথ সহজ করতে পারে।

অন্যদিকে, চীন তার নিরাপত্তা-ব্যবস্থা, মডেল মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কোনো ঘটনা ঘটলে তা জানানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা দেখিয়ে আস্থা বাড়াতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির চীন ও বাণিজ্য আইন বিশেষজ্ঞ হেনরি গাও বলেন, এর চেয়েও গভীর একটি সমস্যা রয়েছে। তা হলো—ওয়াশিংটন ও বেইজিং এআইয়ের ঝুঁকিকে মৌলিকভাবে ভিন্নভাবে দেখে।

গাও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এআই নিরাপত্তা বিতর্কে অনেকেই অত্যন্ত সক্ষম এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে মানবজাতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

অন্যদিকে, চীনে জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগটি তুলনামূলকভাবে ভূরাজনৈতিক। সেখানে বড় আশঙ্কা হলো, যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ে এমন একটি নির্ণায়ক সুবিধা অর্জন করতে পারে, যা চীনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সম্ভব।

“এটি এআই উন্নয়ন ধীর করার পরিবর্তে আরও দ্রুত করার চাপ তৈরি করে,” বলেন গাও।

উন্নয়ন বন্ধ নয়, ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর

কিছু এআই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংলাপের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়া নয়, বরং ইতোমধ্যে বিদ্যমান ঝুঁকিগুলো কমানো।

প্রযুক্তি খাতের পরামর্শক এবং টেক বাজ চায়না নিউজ সাইটের প্রতিষ্ঠাতা রুই মা বলেন, “এআই ইতোমধ্যেই অত্যন্ত কার্যকর এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করার সম্ভাবনা রাখে।”

তাঁর মতে, এআই উন্নয়ন স্থগিত করা হলে প্রযুক্তিটির ইতিবাচক ব্যবহারগুলোর ওপরও প্রভাব পড়বে।

রুই মা বলেন, “আমার মনে হয়, সুচিন্তিত আচরণবিধি, নিয়মিত নজরদারি, যোগাযোগের উন্মুক্ত পথ এবং এআইয়ের সক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পদ্ধতি পরিবর্তন করার সুযোগ—এসবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, “এআইয়ের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও বিকশিত হতে হবে।”

সহযোগিতার সম্ভাবনা

ট্রাম্প ও শির আসন্ন বৈঠককে “ইতিবাচক সংকেত” হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক জিয়াং তিয়ানজিয়াও। তাঁর আশা, দুই দেশ তাদের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কাটিয়ে এআই নিরাপত্তা নিয়ে অভিন্ন অবস্থান খুঁজে বের করতে পারবে।

জিয়াং বলেন, “চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এআই উন্নয়নে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ। তাই এআই যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও প্রধান শক্তি হিসেবে আমাদের ওপর রয়েছে।”

“ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা করে আমাদের একটি বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত,” বলেন তিনি। সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে