Logo
Logo
×

খবর ।  বিদেশ

চিনপিংকে অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প, দাবি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৯:০০ পিএম

চিনপিংকে অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প, দাবি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না, এমন প্রশ্ন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন দাবি করেছেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ। তবে পরে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো প্রস্তাব বা পরিকল্পনা নেই এবং মার্কিন আইনে এমন অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারডিউ বলেন, ট্রাম্প প্রায়ই উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। সেই প্রসঙ্গেই একপর্যায়ে তিনি শিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, চীনও মার্কিন অস্ত্র কিনতে চায় কি না। তবে ট্রাম্প ঠিক কোন বৈঠকে এ প্রশ্ন করেছিলেন কিংবা শি কী জবাব দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি রাষ্ট্রদূত।

পারডিউর এই বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি মার্কিন অস্ত্র প্যাকেজ এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে তাইওয়ানের জন্য আরও বড় একটি অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছিল।

মে মাসে বেইজিংয়ে শির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প তাইওয়ানের ওই ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন স্থগিত রেখেছিলেন। পরে তিনি এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিকে চীনের সঙ্গে আলোচনায় একটি ‘ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ বজায় রেখেছে। অর্থাৎ চীন সামরিক অভিযান চালালে ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয় না। তবে তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্টের আওতায় দ্বীপটির আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামো রয়েছে।

অন্যদিকে বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে এবং প্রয়োজন হলে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাতিল করেনি। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে আসছে চীন। তাইওয়ান সরকার অবশ্য বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

শির সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরেও তাইওয়ান ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চীনের সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, শি ট্রাম্পকে ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার’ বিরোধিতা করার এবং বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে সামলানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

পারডিউর মন্তব্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চীনের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির কোনো প্রস্তাব বা পরিকল্পনা নেই। একজন কর্মকর্তা আরও বলেছেন, মার্কিন আইনেই চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ। ফলে রাষ্ট্রদূতের বর্ণনা করা কথোপকথন বাস্তবে কোনো অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়ায় পরিণত হচ্ছে না বলে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

এই বক্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যুও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে একদিকে তাইওয়ানের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এবং অন্যদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্য—দুই দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা আরও স্পষ্ট করেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে