Logo
Logo
×

খবর ।  বিদেশ

ফ্রান্সজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভে সহিংসতা, গ্রেপ্তার ৪৮৮

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। ১২:৫৫ পিএম

ফ্রান্সজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভে সহিংসতা, গ্রেপ্তার ৪৮৮

শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো ও বিভিন্ন সংকট সমাধানের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে চলমান ছাত্র আন্দোলন মঙ্গলবার বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ঁ ল্যকর্ন্যু একে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস ছাত্র বিক্ষোভ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রাজধানী প্যারিসসহ স্ত্রাসবুর, রেন, তুলুজ ও আরও কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবক ও শিক্ষকেরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরের মিছিলে আড়াই লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের হিসাবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ।

বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইউএসএল জানিয়েছে, আন্দোলনের কারণে প্রায় দুই হাজার হাইস্কুল অবরুদ্ধ বা বন্ধ ছিল।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কৃষক ইউনিয়ন, জ্বালানি খাতের শ্রমিক ও শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরাও সংহতি জানিয়ে রাস্তায় নামেন। অভিভাবকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা সন্তানদের সমর্থনের পাশাপাশি সংঘর্ষ ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ থেকে তাদের রক্ষার জন্যও বিক্ষোভে যোগ দেন।

প্যারিস পুলিশের ভাষ্য, রাজধানীতে প্রায় ৩০০ মুখোশধারী বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। অন্য কয়েকটি শহরে দোকানপাটের ক্ষয়ক্ষতি হলেও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মোট ৪৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৪৮ জন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ল্যকর্ন্যু সপ্তাহের বাকি সময়ের জন্য দেশের হাইস্কুলগুলোতে ক্লাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। পার্লামেন্টে তিনি জানান, সংঘর্ষে অন্তত ২১৫ কিশোর এবং ৮৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের হিসাবে, চলমান সহিংসতায় ৭০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

এই ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল সেপ্টেম্বরে প্যারিসের সুবিধাবঞ্চিত শহরতলিগুলোতে। পরে তা দ্রুত দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শিক্ষক সংকট ও অর্থের ঘাটতি রয়েছে। কোথাও ছাদ বা দেয়াল দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ছে, কোথাও ইঁদুরের উপদ্রবসহ মৌলিক রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যাও দীর্ঘদিন ধরে সমাধান হচ্ছে না।

মার্সেই, নঁত ও লিওঁর বিক্ষোভেও শিক্ষা খাতের সংকট ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন দুর্ভোগ তুলে ধরে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে।

ফ্রান্স এমন এক সময়ে এই আন্দোলনের মুখে পড়েছে, যখন ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০২৪ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মিত্ররা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় বাজেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ প্রধানমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিক্ষোভকে ফ্রান্সের অভিবাসন পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেছেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবিতে ধর্ম বা অভিবাসনের বিষয় নেই; মূলত শিক্ষক সংকট, শিক্ষা খাতে অর্থের ঘাটতি এবং স্কুল অবকাঠামোর দুরবস্থাই আন্দোলনের প্রধান ইস্যু।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে