Logo
Logo
×

খবর ।  বিদেশ

বিজেপি-সমর্থক পরিবার থেকে ভারতের ছাত্র আন্দোলনের মুখ নেহা বোরা

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। ০১:৩৫ পিএম

বিজেপি-সমর্থক পরিবার থেকে ভারতের ছাত্র আন্দোলনের মুখ নেহা বোরা

ভারতের চলমান ছাত্র ও যুব আন্দোলনে দ্রুত পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন নেহা বোরা। দিল্লি, রাঁচি, বিহার থেকে যাদবপুর একাধিক আন্দোলনে তাঁর উপস্থিতি ও বক্তৃতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি নকশালপন্থী সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসার সভাপতি।

সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেহা বলেন, “দিল্লিতে রক্তক্ষরণ হলে কলকাতা উঠে দাঁড়ায়, কলকাতার রক্ত বইলেও দিল্লি পাশে থাকবে।” এর একদিন আগেই দিল্লিতে বিক্ষোভ থেকে তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে নারেলা এলাকায় নিয়ে গিয়ে সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

দিল্লির জ্ঞানেশ কুমার বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের ধরপাকড়ের মধ্যে ব্যারিকেডের উপর বসে নেহা বোরা। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

নেহার জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি বাড়তে শুরু করে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে। মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনে অনশনরতদের সমর্থনে তিনি কয়েকজন সঙ্গীসহ অবস্থান নেন। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনে তাঁর উপস্থিতি বাড়তে থাকে। 

পরবর্তী সময়ে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে রাঁচির ছাত্র আন্দোলনেও অংশ নেন তিনি। সেখানে তাঁর মুখে কালি ছুড়ে মারা হয়। সেই ঘটনার পর নেহা বলেন, কালি ছুড়ে তাঁকে ভয় দেখানো যাবে না; দিল্লির আন্দোলনে তিনি লাঠিচার্জ ও প্যালেট গানের মুখোমুখিও হয়েছেন। 

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচীতে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন নেহা বোরা। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

এরপর বিহারে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবিতেও সক্রিয় হন তিনি। কয়েক বছরের সক্রিয় ছাত্র রাজনীতির পর নেহা এখন ভারতের বিভিন্ন যুব ও গণআন্দোলনের অন্যতম আলোচিত মুখ। তাঁর দৃঢ় বক্তব্য ও লড়াকু অবস্থানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। 

বর্তমানে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের কারণে বহু মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেহা ও তাঁর সমর্থকেরা এই ইস্যুতেই আন্দোলন করছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই রাজনৈতিক সক্রিয়তা

উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা নেহা প্রথমে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি থেকে এমএ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। 

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও জেএনইউতে পড়ার সময় থেকেই বামপন্থী ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ক্যাম্পাস রাজনীতি থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁর সম্পৃক্ততা বাড়ে।

তাঁর নেতৃত্বাধীন আইসা দেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয়। সংগঠনটির মূল রাজনৈতিক দল সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ভারতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন। 

পরিবার বিজেপি-সমর্থক, নেহা বামপন্থী

নেহার রাজনৈতিক পরিচয়ের আরেকটি আলোচিত দিক তাঁর পারিবারিক পটভূমি। তিনি এমন একটি পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির প্রতি সমর্থন রয়েছে। কিন্তু নেহা নিজে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। 

নিজের পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কথা প্রকাশ্যেই বলেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে এসে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই পরিবারের ভেতরে এই মতপার্থক্য শুরু হয়। তবে নিজের পড়াশোনা, অর্থনৈতিক বিষয় এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবার তাঁকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়েছে। 

নেহা বোরা জানিয়েছেন, তার পরিবার বিজেপি সমর্থক। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

নেহা বলেছেন, আন্দোলনের সময় বিজেপি-সমর্থক অভিভাবক ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও তাঁদের কাছে এসে ছাত্রদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর নিজের মাও পুলিশি পদক্ষেপ দেখার পর আন্দোলনকারীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। 

‘তুলনা নয়, সংহতি’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেহা বোরার সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের আরেক পরিচিত মুখ অভিজিৎ দীপকের তুলনাও করা হচ্ছে। কে বেশি ‘ম্যাচিউর’ বা বেশি প্রভাবশালী—এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে একটি পোস্টে নেহাকে এগিয়ে রাখা হলে অভিজিৎ নিজেই সেটির সঙ্গে একমত হন। 

তবে নেহা সেই তুলনার জবাবে লিখেছিলেন, “তুলনা নয়, সংহতি। আমরা একসঙ্গে লড়ি।” পরে অভিজিৎও তাঁর প্রতি সমর্থন জানান। 

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে নেহা বোরার তুলনা টানছেন। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

নেহার মতে, ছাত্র আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো একে কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিচয় বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। তাঁর বিশ্বাস, তরুণেরা একে অপরের বিরুদ্ধে নয়, বরং একে অপরের জন্য লড়লে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব। 

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে