প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
সার্বিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের একটি মুহূর্ত। ছবি: রয়টার্স
দীর্ঘদিনের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় সাত মাস আগে তিনি সরে দাঁড়ানোয় দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে ২৫ অক্টোবর আগাম সংসদীয় নির্বাচনও হওয়ার কথা রয়েছে।
বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভুচিচ তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের জন্য কাজ করেছেন এবং নিজের সরকারের অর্জন নিয়ে গর্বিত। এর আগে জুনেই তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

দুর্নীতির অভিযোগে রাজধানী থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে গোটা সার্বিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: রয়টার্স
ভুচিচ ২০১৭ সাল থেকে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর বর্তমান মেয়াদই ছিল দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ। পদত্যাগের পর তিনি ২৫ অক্টোবরের সংসদীয় নির্বাচনে নিজের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে ফেরার চেষ্টা করবেন। তাঁর দল সরকার গঠন করতে পারলে ভুচিচ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।
সার্বিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের বড় সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের সংস্কার করা রেলস্টেশনের একটি ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর। ওই ঘটনার পর সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা, দায়ীদের জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে শ্রমিক, শিক্ষকসহ সমাজের বিভিন্ন অংশও এতে যুক্ত হয়।

টানা নয় বছর ক্ষমতায় ছিলেন আলেকজান্ডার ভুচিচ। ছবি: রয়টার্স
বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন এবং আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের মারধর ও অন্যায়ভাবে আটকের অভিযোগও উঠেছে। তবে সার্বিয়ার সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নোভি সাদের দুর্ঘটনার পর সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন বা গ্রেপ্তার হন। তাতেও বিক্ষোভ থামেনি। আন্দোলন চলতে থাকায় শেষ পর্যন্ত আগাম সংসদীয় নির্বাচন ঘোষণার পাশাপাশি ভুচিচও প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সামনে দুই নির্বাচন
সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। ভুচিচ জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
অন্যদিকে ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদীয় নির্বাচনে ভুচিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী প্ল্যাটফর্ম ‘স্টুডেন্টস উইন’। পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
পদত্যাগের আগে বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার বা বিচারের মুখোমুখি হওয়া ৪৯ জনকে সাধারণ ক্ষমা বা ক্ষমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ভুচিচ। তাঁদের মধ্যে আন্দোলনকর্মী এবং তাঁর নিজের সমর্থক—দুই পক্ষের ব্যক্তিই রয়েছেন।
সার্বিয়ার রাজনীতিতে এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন ভুচিচ। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এরপর প্রেসিডেন্ট হন। পররাষ্ট্রনীতিতে তাঁর সরকার একদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার লক্ষ্য ধরে রেখেছে, অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
এখন তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে অক্টোবরের সংসদীয় নির্বাচনের ওপর। একই সঙ্গে তাঁর পদত্যাগের কারণে বছরের শেষ নাগাদ নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়াতেও যেতে হচ্ছে সার্বিয়ার ভোটারদের।
দীর্ঘদিনের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় সাত মাস আগে তিনি সরে দাঁড়ানোয় দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে ২৫ অক্টোবর আগাম সংসদীয় নির্বাচনও হওয়ার কথা রয়েছে।
বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভুচিচ তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের জন্য কাজ করেছেন এবং নিজের সরকারের অর্জন নিয়ে গর্বিত। এর আগে জুনেই তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

দুর্নীতির অভিযোগে রাজধানী থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে গোটা সার্বিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: রয়টার্স
ভুচিচ ২০১৭ সাল থেকে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর বর্তমান মেয়াদই ছিল দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ। পদত্যাগের পর তিনি ২৫ অক্টোবরের সংসদীয় নির্বাচনে নিজের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে ফেরার চেষ্টা করবেন। তাঁর দল সরকার গঠন করতে পারলে ভুচিচ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।
সার্বিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের বড় সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের সংস্কার করা রেলস্টেশনের একটি ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর। ওই ঘটনার পর সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা, দায়ীদের জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে শ্রমিক, শিক্ষকসহ সমাজের বিভিন্ন অংশও এতে যুক্ত হয়।

টানা নয় বছর ক্ষমতায় ছিলেন আলেকজান্ডার ভুচিচ। ছবি: রয়টার্স
বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন এবং আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের মারধর ও অন্যায়ভাবে আটকের অভিযোগও উঠেছে। তবে সার্বিয়ার সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নোভি সাদের দুর্ঘটনার পর সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন বা গ্রেপ্তার হন। তাতেও বিক্ষোভ থামেনি। আন্দোলন চলতে থাকায় শেষ পর্যন্ত আগাম সংসদীয় নির্বাচন ঘোষণার পাশাপাশি ভুচিচও প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সামনে দুই নির্বাচন
সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। ভুচিচ জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
অন্যদিকে ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদীয় নির্বাচনে ভুচিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী প্ল্যাটফর্ম ‘স্টুডেন্টস উইন’। পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
পদত্যাগের আগে বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার বা বিচারের মুখোমুখি হওয়া ৪৯ জনকে সাধারণ ক্ষমা বা ক্ষমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ভুচিচ। তাঁদের মধ্যে আন্দোলনকর্মী এবং তাঁর নিজের সমর্থক—দুই পক্ষের ব্যক্তিই রয়েছেন।
সার্বিয়ার রাজনীতিতে এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন ভুচিচ। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এরপর প্রেসিডেন্ট হন। পররাষ্ট্রনীতিতে তাঁর সরকার একদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার লক্ষ্য ধরে রেখেছে, অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
এখন তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে অক্টোবরের সংসদীয় নির্বাচনের ওপর। একই সঙ্গে তাঁর পদত্যাগের কারণে বছরের শেষ নাগাদ নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়াতেও যেতে হচ্ছে সার্বিয়ার ভোটারদের।