প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ চারজন মুক্তি পেয়েছেন। তবে নেতাদের মুক্তির পরও আন্দোলন থেকে সরে আসছে না সংগঠনটি। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।
রোববার ভোরে ধ্রুব রাঠিকে মুক্তি দেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ডাকা বিক্ষোভের আগে শনিবার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল। মুক্তির সময় তাকে পরবর্তী বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এরপর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সংগঠনটির দুই জ্যেষ্ঠ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাও মুক্তি পান। শনিবার দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান থেকেই এই তিনজনকে আটক করা হয়েছিল।
রোববার ভোরে তাদের এক ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। পরে এক বছরের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে তাদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, আটক নেতাদের কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়ে দীর্ঘ সময় কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছিল না। সংগঠনটির আইনবিষয়ক প্রধান জানিয়েছিলেন, তিন নেতাকে রোববার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তোলা হবে।
নেতাদের মুক্তি মিললেও দিল্লিতে বিক্ষোভ থামেনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে রোববারও নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিজেপি। সংগঠনটি বলছে, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শনিবারের কর্মসূচি ঠেকাতে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশের হিসাবে দিনভর প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। এর আগে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অন্তত এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়। পরে আটকদের অধিকাংশকেই ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়েছে এবং এতে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পাচ্ছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপিও ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা এবং নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে জাতিসংঘের এই প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার ভারতের সংবিধানে স্বীকৃত এবং জনশৃঙ্খলার স্বার্থে আইনের আওতায় যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা যায়। জাতিসংঘের মন্তব্যকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ’ বলেও অভিহিত করেছে নয়াদিল্লি।





