প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ থেকে আটকের পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে একই কর্মসূচি থেকে আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লির কনট প্লেসে ‘লহরা দো তেরঙ্গা’ পদযাত্রায় অংশ নিতে যাওয়ার সময় দুই নেতাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরদিন শনিবার (১৭ অক্টোবর) অভিজিৎ দীপকেকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় বিএনএসএসের ১২৬ ও ১৭০ ধারায় অভিজিৎকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। শনিবারই তাকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে আইনের ৬৫ ধারার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর শনিবার সকালে শিক্ষার্থী সংগঠন আইসার সভাপতি নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
তবে অভিজিৎ দীপকেকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি। একই সঙ্গে তার আইনজীবীদেরও দেখা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছে দলটি।
সিজেপির আইনি শাখার প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, অভিজিৎকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার অবস্থান সম্পর্কে আইনজীবীদের কিছু জানানো হয়নি।
তিনি লেখেন, ‘অভিজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে এসইএম আদালতে তোলা হবে। তবে তার অবস্থান এখনো অজ্ঞাত। আইনজীবীরাও তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।’
ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বিক্ষোভ
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচি ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআরের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবারের পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম রয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন তারা।
এই দাবিতে সিজেপিসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।
শুক্রবার নয়াদিল্লির কনট প্লেসে আয়োজিত ‘লহরা দো তেরঙ্গা’ পদযাত্রাও ছিল ওই আন্দোলনের অংশ।
কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও আইসার সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
আটকের পরপরই দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের নেতাদের আইনজীবী ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
আইসার দাবি ছিল, নেহা বোরাকে মঙ্গোলপুরীর অ্যান্টি-নারকোটিকস টাস্ক ফোর্সের কার্যালয়ে একা আটকে রাখা হয়েছিল।
অন্যদিকে সিজেপি এক্সে দেওয়া পোস্টে জানায়, দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। দলের নেতারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না এবং তাকে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না।
আটকের উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করা, অভিযোগ নেহার
শনিবার সকালে পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নেহা বোরা আটক অভিযানের সমালোচনা করেন।
তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করছে।
নেহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মানুষকে আটক করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখা হচ্ছে। চলমান আন্দোলনের সময় প্রায় প্রতিদিনই এমন ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষায়, বিক্ষোভকারীদের আটক করে কখনো পরদিন সকালে, আবার কখনো গভীর রাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থী নেত্রীর দাবি, এসব আটকের উদ্দেশ্য সাধারণ নাগরিকদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।
তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতেই যে এসব বেআইনি আটক অভিযান চালানো হচ্ছে, আজ আমি ব্যক্তিগতভাবে তার সাক্ষী হলাম।’
একই সঙ্গে অভিজিৎ দীপকেসহ আটক সব আন্দোলনকারীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন নেহা।
তিনি জানান, নিজের আটকের সময় অভিজিৎকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানতেন না।
নেহা বলেন, অভিজিৎকে মুক্তি দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে যেসব বিক্ষোভকারীকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদেরও অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে।
তার বক্তব্য, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সাধারণ নাগরিক। তারা শুধু ভোটাধিকার এবং নির্বাচনব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
এ ধরনের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কাউকে রাতভর থানায় আটকে রাখার যৌক্তিকতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে অভিজিৎ দীপকেকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর তার অবস্থান প্রকাশ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সিজেপি।
তবে অভিজিতের অবস্থান গোপন রাখা ও আইনজীবীদের সাক্ষাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কোনো বক্তব্য মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
শনিবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিজিৎকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মুক্তি পেয়েছেন নেহা বোরা।





