প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬। ০৩:২৭ পিএম
আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬। ১৭:১২ পিএম
১০ অক্টোবর, নয়াদিল্লি। বন্ধ মেট্রো, বন্ধ ইন্টারনেট, রাস্তায় ব্যারিকেড, হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন। সকালেই বিমান থেকে আটক হলেন ককরোচ আন্দোলনের নেতা। এত আয়োজন একটি দাবির বিরুদ্ধে: ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।
জ্ঞানেশ কুমার হলেন ভারতের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, কেরালা ক্যাডারের ১৯৮৮ ব্যাচের সাবেক আইএএস কর্মকর্তা। ২০২৪ সালের মার্চে নির্বাচন কমিশনার হন, আর ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান কমিশনার। ২০২৩ সালের নতুন আইনে নিযুক্ত তিনিই প্রথম প্রধান কমিশনার, যাকে বাছাই করেছিল প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্যানেল।
বিক্ষোভের কারণ ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’, সংক্ষেপে এসআইআর। এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা নতুন করে যাচাই করে মৃত, স্থানান্তরিত ও দ্বৈত নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। শুরুটা বিহারে, যেখানে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ে প্রায় ৬৫ লাখ নাম। বিরোধীদের অভিযোগ, এটা আসলে ‘ভোট চুরি’।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। কমিশন বলছে, সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত। একটি জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্র, কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
অন্যদিকে ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট এসআইআরকে বৈধ বলে রায় দিয়েছে। যদিও আদালত মেনেছে, শুরুর দিকে নথি ও স্বচ্ছতা নিয়ে ন্যায্য উদ্বেগ ছিল। জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্য, নাম বাদ পড়লে আপিলের সুযোগ আছে, তারপর আদালত, আর বিরোধীরা ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।
২ অক্টোবর, গান্ধী জয়ন্তীতে ‘যন্তরমন্তর ২.০’ শুরু হয়। পুলিশ অনুমতি দেয়নি, এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। প্রথম দিনে আটক হন কয়েকশ থেকে হাজারের বেশি মানুষ, সূত্রভেদে সংখ্যা আলাদা। ৬ থেকে ৮ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোট কমিশনের দিকে মিছিল করে। আটক হন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ অনেকে।
১০ অক্টোবরের সমাবেশের ডাক দেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। পুলিশ অনুমতি দেয়নি। দিল্লিতে মোতায়েন হয় প্রায় ২৩ হাজার আধাসামরিক সদস্য, বন্ধ হয় কয়েক ডজন মেট্রো স্টেশন। আগের দিন সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, আশঙ্কার অজুহাতে সব মেট্রো-ট্রেন চলাচল বন্ধ করা যাবে না।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর সকালে ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রামের বাসা থেকে আটক করা হয়। দিল্লি বিমানবন্দরে বিমানের ভেতর থেকেই আটক হন অভিজিৎ দিপকেসহ তিন নেতা। পরে আটক হন নেহা বোড়া, তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আপ (আম আদমি পার্টি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, ব্যারিকেড ভাঙার সময় পাথর ছোড়ায় দুই পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন বলেছেন, এই আন্দোলন দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা।
এই আন্দোলনের তিনটি পরিচিত মুখ।
অভিজিৎ দিপকে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা। ২০২৬ সালের ১৬ মে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন উদ্যোগ হিসেবে এর শুরু। নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে যন্তরমন্তরের আন্দোলনের মধ্যেই ২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
নেহা বোড়া, ২৯ বছর বয়সী জেএনইউ গবেষক ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসার সভাপতি। নিট আন্দোলনে ২৩ দিন অনশন করে তিনি দেশজুড়ে পরিচিত হন।
ধ্রুব রাঠি, জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার, যিনি মূলত জার্মানি থেকে অনলাইনেই সরকারের সমালোচনা করতেন। ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, তিনি সরকার বদল চান না, চান নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা।
প্রশ্নটা তাই শুধু একজন কর্মকর্তার নয়। ভোটার তালিকা কীভাবে তৈরি হবে, নিরপেক্ষতা কে নিশ্চিত করবে, আর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জায়গা কতটা থাকবে, এর উত্তর মিলবে আদালতে ও সংসদে। আমরা নজর রাখছি।





