Logo
Logo
×
জি৭ তেল ছাড়ছে, কমবে কি জ্বালানির দাম

ট্রাম্পের চাপের পর জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়তে রাজি হয়েছে জি৭। ছবি: বাংলাবাজার ক্রিয়েটিভ

অর্থনীতি ।  এনার্জি

জি৭ তেল ছাড়ছে, কমবে কি জ্বালানির দাম

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬। ০৬:০৪ পিএম

আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬। ১৮:০৫ পিএম

ইরান যুদ্ধের পর থেকেই বেসামাল আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজার। বাড়ছে মানুষের প্রতিদিনকার খরচ। নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। ক্রমশ বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। আর এই প্রকোপ থেকে বাদ যাচ্ছে না কোনো দেশ।

পৃথিবীর অন্যতম উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রকোপের বাইরে নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্প্রতি পদক্ষেপ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার চাপের পর জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি মজুত থেকে কয়েক মাস ধরে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়তে রাজি হয়েছে বিশ্বের সাত শিল্পোন্নত দেশের জোট জি৭।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেল ও ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন আল জাজিরাকে বলেন, “জি৭ সদস্যদের জরুরি মজুত বাজারে ছাড়ার ফলে দামে কিছুটা নিম্নমুখী চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দামে। তবে সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় এটি কেবল সাময়িক সমাধান হওয়ায় এর প্রভাবও স্বল্পস্থায়ী হতে পারে।”

গত বৃহস্পতিবার তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ে এবং দিনের শেষে প্রতি ব্যারেলে ৪ ডলারের বেশি বৃদ্ধি নিয়ে লেনদেন শেষ হয়। বিশ্ববাজারে ডিজেলের দামও গত শুক্রবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) হিসাবে, এক গ্যালন বা ৩ দশমিক ৭৯ লিটার ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫০ ডলারে, যা এক মাস আগে ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার।

কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে গঠিত জি৭। জোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নও প্রতিনিধিত্ব করে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ’ ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে। প্রয়োজনে আরও ডিজেল ছাড়ার বিষয়েও আগামী কয়েক দিনে আলোচনা হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, জি৭-এর এই পদক্ষেপ কি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে পারবে?

শুক্রবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোর সভাপতিত্বে জি৭ নেতাদের ভিডিও কনফারেন্সের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “ইতোমধ্যে যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএর মাধ্যমে সমন্বিতভাবে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি বাজারে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।”

চলতি সপ্তাহের শুরুতে আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জানান, এর আগে নেওয়া ৪০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি ছাড়ার সিদ্ধান্তের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে বাজারে দেওয়া হয়েছে।

জি৭-এর নতুন জ্বালানি ছাড়ার কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে এবং চার মাস চলবে। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল ছাড়া হবে। তবে কোন সদস্যদেশ কত পরিমাণ তেল ও ডিজেল ছাড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ডিজেল ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আইইএর কাঠামোর আওতায় আমরা বৈঠক করব।”

এতে আরও বলা হয়, “জি৭-এর শোধনাগারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের সময়সূচি সমন্বয় করা হবে, যাতে একই সময়ে একাধিক স্থাপনায় উৎপাদন বন্ধ না হয়। যেখানে সম্ভব, সাময়িকভাবে উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহারও বাড়ানো হবে।”

জি৭ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিল। একই সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল, যাতে দ্রুত বাড়তে থাকা দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলাও বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তেল শিল্প ও বাজার বিভাগের সাবেক প্রধান নিল অ্যাটকিনসন আল জাজিরাকে বলেন, বিশ্বে ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে।

প্রথমত, “মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে ডিজেল আসছে না। অথচ ইউরোপ সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল আমদানি করত।”

দ্বিতীয়ত, “ইউক্রেনের হামলায় রুশ তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়া এখন পুরোপুরি ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “চীনও এখন আর ডিজেল রপ্তানি করছে না।”

অ্যাটকিনসনের ভাষ্য, “আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে আছি, যেখানে চাহিদা এখনও তুলনামূলক বেশি। কৃষিপণ্য সংগ্রহের মৌসুম চলায় এই চাহিদা উচ্চ পর্যায়েই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।”

জয়েন্ট অর্গানাইজেশনস ডেটা ইনিশিয়েটিভ (জোডি) এবং তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক। দেশটি বছরে প্রায় ২৪ কোটি ৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করে এবং প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে।

এক গ্যালন বা ৩ দশমিক ৭৯ লিটার ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫০ ডলারে, যা এক মাস আগে ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার। ছবি: বাংলাবাজার ক্রিয়েটিভ

রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজেল রপ্তানিকারক। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ ব্যারেল ডিজেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করে। অন্যদিকে সৌদি আরব বছরে ৫ কোটি ৮৪ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক হলেও এর বড় অংশ দেশটির অভ্যন্তরেই ব্যবহৃত হয়।

জি৭-এর ঘোষণার পর বৈঠকের সহসভাপতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো বলেন, জোটের তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত “পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম, বিশেষ করে ডিজেলের দাম কমাতে সাহায্য করবে।”

জি৭-এর ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কিছু সময়ের জন্য ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তবে সন্ধ্যার দিকে তা আবার প্রায় ১০২ ডলারে উঠে যায়।

জায়ে ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাঈম আসলাম আল জাজিরাকে বলেন, জি৭-এর এই জ্বালানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত “খুবই প্রয়োজনীয়” ছিল। তবে আপাতত এই ঘোষণা মূলত বাজারের ওপর চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “কারা কত মজুত ছাড়বে, কী ধরনের জ্বালানি ছাড়া হবে এবং কোথায় কোন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে; এসব কাঠামোগত বিষয় বাজারের জন্য এখনও গুরুত্বপূর্ণ।”

আসলামের মতে, রবিবার রাত নাগাদ, বিশেষ করে বাজার খোলার আগে জ্বালানির দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ কিছুটা কমে আসতে পারে। “তবে সোমবার সকালে বাজারে আবার বিপরীতমুখী প্রবণতাও দেখা যেতে পারে।”

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অ্যাটকিনসন বলেন, জি৭-এর জ্বালানি বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত স্বাগত জানানো যায়। তবে এতে “মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কারণ বৈশ্বিক সরবরাহ এখনও স্বাভাবিকের তুলনায় কম।”

তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর সাত মাস পরও আমরা এমন পরিস্থিতিতে আছি, যেখানে অপরিশোধিত তেল বা পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ যুদ্ধের আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

“এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি পণ্য, প্রধানত ডিজেল; আমরা মূলত সেটিই নিয়ে কথা বলছি।”

ডিজেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তাদের আশঙ্কা, নভেম্বরের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।

গত সপ্তাহে যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার ডিজেল স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ দেন ট্রাম্প।

এরপর বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, তার প্রশাসন ইউরোপীয় দেশগুলোকে ডিজেলের মজুত বাজারে ছাড়ার অনুরোধ “করতে পাররে।” এর কিছুক্ষণ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইউরোপকে জরুরি মজুত থেকে “অবিলম্বে” ডিজেল ছাড়ার আহ্বান জানান।

ইউরোপ জরুরি ডিজেল মজুত না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

তবে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ওয়াশিংটন ডিজেল রপ্তানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। তার দাবি, এমন পরিকল্পনা আসলে কখনোই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় ছিল না।

ট্রাম্প বলেন, “ইউরোপের কাছে প্রচুর ডিজেল রয়েছে। তারা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অবদান রাখতে যাচ্ছে, আমরাও তা করব। আর আমরা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দেব না। আমাদের যা করা উচিত, সেটিই করব।”

শুক্রবার মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের ননরেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো ফ্রেডেরিক স্নাইডার আল জাজিরাকে বলেন, “৬ ডলারের ওপরে ডিজেলের দাম ট্রাম্পকে উদ্বিগ্ন করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এটি প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে মৌসুমি ডিজেল মজুত এখন ১৯৮২ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”

তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে যদি পর্যাপ্ত ডিজেল উৎপাদিত না হয় এবং মজুতও শেষ হয়ে আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশি ডিজেল রাখার একমাত্র উপায় হলো কম রপ্তানি করা।”

জি৭-এর ঘোষণার পর নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, “ইউরোপ তাদের বিপুল ডিজেল মজুত থেকে বিশাল পরিমাণ বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে।”

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে প্রক্রিয়াটির সঙ্গে পরিচিত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উচ্চ ডিজেলের দাম মোকাবিলায় হোয়াইট হাউস একটি নির্বাহী আদেশ প্রস্তুত করছে, যা আগামী সপ্তাহেই ঘোষণা করা হতে পারে।

স্নাইডার বলেন, উচ্চ জ্বালানি মূল্য নিয়ে অন্য দেশগুলোরও উদ্বেগ রয়েছে। কারণ ডিজেল ও পেট্রল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এবং দুই ধরনের জ্বালানির ব্যবহারও আলাদা।

তিনি বলেন, “পেট্রল মূলত ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ডিজেল চলে ট্রাক, মালবাহী ট্রেন, জাহাজ, ট্রাক্টর, ফসল কাটার যন্ত্র, নির্মাণ যন্ত্রপাতি, খনি সরঞ্জাম ও ব্যাকআপ জেনারেটরে। অর্থাৎ পেট্রল বেশি ব্যবহার করেন ভোক্তারা, আর ডিজেল প্রধানত উৎপাদকদের জ্বালানি। তাই ডিজেলের দামে ধাক্কা লাগলে তার প্রভাব প্রায় সব কিছুর দামেই ছড়িয়ে পড়ে; বিশেষ করে খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং ট্রাকে পরিবহন করা পণ্যে।”

কৃষকেরা দ্বিমুখী চাপের মুখে পড়ছেন। কারণ ডিজেলের পাশাপাশি সারের দামও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে উভয় পণ্যের দামেই ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

স্নাইডারের ভাষায়, “উচ্চ ডিজেলের দাম উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর এক ধরনের করের মতো কাজ করে। অন্যদিকে বেশি পেট্রলের দাম সরাসরি ভোক্তার ওপর করের মতো চাপ সৃষ্টি করে। পেট্রলের মতো ডিজেলের উচ্চ দামও স্থবির মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করে; একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ায়, অন্যদিকে পরিবহন ও কৃষি খাতের মুনাফা সংকুচিত করে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এক ধরনের দ্বিধায় পড়ে। সুদের হার কমিয়ে উৎপাদকদের সহায়তা করবে, নাকি মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে সুদের হার বাড়াবে।”

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে