Logo
Logo
×

খবর ।  বিদেশ

সিইসির পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ, মাঠে ৩০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬। ১২:২৭ পিএম

সিইসির পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ, মাঠে ৩০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কর্মসূচি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় দিল্লিতে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তরের প্রবেশপথ ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করার পাশাপাশি মেট্রো ও মোবাইল ইন্টারনেটেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরেই এ আন্দোলন। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনায় ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শনিবারের কর্মসূচিতে কয়েক হাজার মানুষকে যন্তর মন্তরে জড়ো করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। পুলিশের বক্তব্য, আয়োজকেরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করেননি এবং আগের কয়েকটি কর্মসূচিতে নিয়ম মানা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার বিষয়টিও অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

তারপরও কর্মসূচি থেকে সরে আসেনি সিজেপি। সংগঠনটির নেতৃত্ব জানিয়েছে, বাধা এলেও তারা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করবে।

বিক্ষোভ ঘিরে কেন্দ্রীয় দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় দিল্লির নির্দিষ্ট চার কিলোমিটার এলাকায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার কথা।

একই সঙ্গে বহু মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় দিল্লির বিভিন্ন বাজারও বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রী ও বাসিন্দাদের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টি মূলত ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও ধীরে ধীরে যুব ও ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সংগঠনটির প্রধান অভিজিৎ দীপকে বর্তমান বিক্ষোভ কর্মসূচির অন্যতম মুখ।

সিজেপির পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, কৃষক সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলও নির্বাচন কমিশনবিরোধী কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধিতায় দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

গত সপ্তাহে মুম্বাই এবং বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতেও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বড় কর্মসূচি হয়েছে। চলমান প্রতিবাদকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন করছেন আয়োজকেরা। 

এর আগে জুলাইয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্দোলনেও সক্রিয় ছিল সিজেপি। সেই আন্দোলনের পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাও সংগঠনটির রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ায়।

বর্তমান কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা বাড়লেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগের দাবি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি, যোগাযোগ ও যাতায়াতে বিধিনিষেধ এবং আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থানের কারণে শনিবারের কর্মসূচি ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে