Logo
Logo
×

খবর ।  বিদেশ

মমতা-কেজরিওয়াল আটক, দিল্লিতে হেফাজতে হাজারের বেশি

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬। ০৩:৫৮ পিএম

আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬। ১৬:০১ পিএম

মমতা-কেজরিওয়াল আটক, দিল্লিতে হেফাজতে হাজারের বেশি

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দিল্লিতে ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার সকাল থেকে হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ।

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, আম আদমি পার্টির প্রধান ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জী, বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও আটকদের মধ্যে রয়েছেন।

শনিবার বিকেলের দিকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও দিল্লি পুলিশ আটক করেছে বলে নিশ্চিত করা হয়। একই ঘটনায় মমতা ব্যানার্জী ও পিনারাই বিজয়নসহ একাধিক বিরোধী নেতাকেও আটক করা হয়েছে। 

এর আগে কেজরিওয়াল ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি পরিবারসহ যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দেবেন। তিনি দেশজুড়ে মানুষকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন। তার দল আম আদমি পার্টি পরে অভিযোগ করে, বিক্ষোভের দিন কেজরিওয়ালের বাসভবন ঘিরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবির এই কর্মসূচির মূল কেন্দ্র ছিল যন্তর মন্তর। তবে সকাল থেকেই পুরো এলাকাকে নিরাপত্তাবলয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশ। যন্তর মন্তরে যাওয়ার বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি কয়েকটি জায়গায় কাঁটাযুক্ত প্রতিবন্ধকতাও রাখা হয়। আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি কিছু এলাকায় সাংবাদিকদের চলাচলেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। 

মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়। যন্তর মন্তরের প্রায় চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধে ইন্টারনেট বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয় এবং অনেক দোকানপাটও বন্ধ থাকে। বিভিন্ন সড়কে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

পুলিশি বাধার কারণে যন্তর মন্তরে বড় জমায়েত সম্ভব না হওয়ায় আন্দোলনের কৌশলও বদলে যায়। দুপুরে বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা দিল্লি হাট এলাকায় আন্দোলনকারীদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। পরে সেখানে ছাত্র ও যুবকদের একটি অংশ বিক্ষোভ শুরু করে। একই সময়ে বিজেপির দপ্তরের বাইরেও বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়। 

দুপুরের দিকে সফদরজং ফ্লাইওভারের কাছ থেকে নেহা বোরা, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য ও সামাজিক কর্মী যোগেন্দ্র যাদবসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। 

অন্যদিকে দক্ষিণ দিল্লিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার সময় মমতা ব্যানার্জীকেও পুলিশ হেফাজতে নেয়। তার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেনসহ আরও কয়েকজন নেতা ছিলেন। 

কেরালার বিরোধীদলীয় নেতা পিনারাই বিজয়নসহ সিপিআই(এম)-এর একাধিক নেতাকেও আটক করা হয়েছে। এর আগে দলের পক্ষ থেকে এম এ বেবি, বৃন্দা কারাট, এম ভি গোবিন্দন ও পি কে শ্রীমতীসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা আটক হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। 

ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও সকাল থেকেই আটক অভিযান চলে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাদের উড়োজাহাজ থেকেই আটক করা হয় বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। 

আটক হওয়ার আগেই অভিজিৎ একটি ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন। সেখানে তিনি জানান, তিনি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আটক হলে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন আজিঙ্ক্যা শিন্ডে।

এর আগেই গুরুগ্রামের বাসা থেকে আটক করা হয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে। তিনি আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শনিবারের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে জার্মানি থেকে ভারতে ফিরে ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে ককরোচ জনতা পার্টির একটি বিক্ষোভেও অংশ নেন তিনি।

ককরোচ জনতা পার্টির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়েছে। তার অভিযোগ, পুলিশ প্রথমে বাসায় গিয়ে তাকে না পেয়ে পরে রাস্তায় গাড়ির ভেতর থেকে আটক করে।

দিল্লির কয়েকটি এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবরও পাওয়া গেছে। জনপথ এলাকার কাছে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। কিছু আন্দোলনকারী বাংলা সাহিব গুরুদ্বারের দিকে আশ্রয় নিলে সেখান থেকেও শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

বিক্ষোভের মূল ইস্যু ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এতে রাজনৈতিক পক্ষপাত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ভোটার তালিকা যাচাই ও হালনাগাদের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সংশোধন কার্যক্রম চলছে। 

অন্যদিকে বিজেপি নেতারা বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।

যন্তর মন্তরে পরিকল্পিত বড় সমাবেশ ঠেকানো গেলেও দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলনকারীদের জড়ো হওয়ার চেষ্টা, বিরোধী নেতাদের আটক এবং ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েনের কারণে শনিবার দিনভর রাজধানীতে উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে