Logo
Logo
×

খবর ।  রাজনীতি

‘দলকে বিব্রত না করতেই পদ ছাড়ছি’, অস্ত্রকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ০২:৪০ পিএম

আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬। ১৮:০৭ পিএম

‘দলকে বিব্রত না করতেই পদ ছাড়ছি’, অস্ত্রকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তার দাবি, বিএনপি ও সরকার যাতে বিব্রত না হয় এবং তার কর্মকাণ্ডের কারণে প্রধানমন্ত্রীর কাজ আড়ালে পড়ে না যায়, সে জন্যই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিজের সিদ্ধান্ত ও বিতর্কিত অভিযানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য। এ সময় তার সঙ্গে কয়েক শ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ইশরাক জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমতি চেয়েছেন। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।

অভিযান ঘিরে সমালোচনার বিষয়ে ইশরাক বলেন, ‘গণমাধ্যমের ভূমিকায় আমি হতাশ হয়েছি, কেন আমাকে এভাবে টার্গেট করা হল।’

তার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে অস্ত্র হাতে থাকার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এতে মাদকবিরোধী অভিযানের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে চলে গেছে।

অস্ত্র হাতে অভিযানে যাওয়ার ব্যাখ্যা

গত ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর ও মুন্সিরটেক এলাকায় পরিচালিত অভিযানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ইশরাক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বারবার তার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। ঘুণ্টিঘর এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আধা-সরকারি পত্রও পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

ইশরাকের দাবি, গত ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ১৭ অক্টোবর অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের আগে পুলিশকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় বিস্তারিত পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে সংশ্লিষ্টদের জানানো হতো।

অস্ত্র হাতে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ইশরাক বলেন, ঘুণ্টিঘর এলাকায় প্রবেশের পর কয়েকজনকে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখে নিজের নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বের করেন তিনি।

তার দাবি, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে এলাকায় হেঁটে বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রি ও সেবনের চিত্র দেখেছেন। কয়েকটি ভবনে তল্লাশির সময় পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনভর্তি একটি স্কুলব্যাগ, প্রায় ৩০০ গ্রাম হেরোইন, কয়েক বোতল মদ এবং দেশীয় অস্ত্র পাওয়া যায়।

অভিযান শেষে ছয়জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় বলে জানান তিনি। তবে উদ্ধার করা সামগ্রীর পরিমাণ ও বিবরণ তার নিজস্ব দাবি; স্বাধীনভাবে এসব তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

ইশরাক বলেন, কাউকে নিজের হাতে শাস্তি দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই ছিল লক্ষ্য।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার নামে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। একটি পিস্তল ও অন্যটি রাইফেল। অভিযানের সময় দ্বিতীয় অস্ত্রটি লাইসেন্সধারী এক সহকর্মীর কাছে ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

ইশরাকের বক্তব্য, কাউকে ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার জন্য অস্ত্র ব্যবহার করেননি। নিজের নিরাপত্তার প্রয়োজনে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি কোনো ভুল করেছেন বলেও মনে করেন না।

তবে অভিযানের সময় কেউ আহত হয়ে থাকলে সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে ইশরাক বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। সদস্যসংকট, যানবাহনের অভাব ও মাদক কারবারিদের হামলার আশঙ্কায় ওই এলাকায় কার্যকর অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, স্থানীয় বাসিন্দাদের চাপের মুখেই তিনি মাদকবিরোধী অভিযানের সমন্বয় ও নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতে তার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ ছিল না।

এদিকে অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও প্রকাশের পর একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও ঘটনার সমালোচনা করে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট উপকমিশনারকে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনের কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণার আগে রবিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক নিজের সিদ্ধান্তেই অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানান।

প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লেও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক। তার মতে, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের আটক করে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; মূল সরবরাহকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত বিএনপি ও দলের প্রধান তারেক রহমান নেবেন। দল চাইলে তিনি নির্বাচন করতে প্রস্তুত। অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তার পক্ষে কাজ করবেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে ইশরাক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মাদকবিরোধী যুদ্ধ শুরু করেছ, চালিয়ে যাও।’

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে