প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৬:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৮:৫৮ পিএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ছয়তলা মেসবাড়ি ধসে পড়েছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন এবং দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপে অনেক শিক্ষার্থী আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আটকে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ফোন করে উদ্ধারের আকুতি জানাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
সত্য নিকেতন এলাকায় ‘হোস্টেল ডেজ’ নামে পরিচিত ভবনটি রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে ধসে পড়ে। ভবনটিতে মূলত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা ভাড়া থাকতেন।
ধ্বংসস্তূপে আটকা অনেক শিক্ষার্থী
ভবনটি ধসে পড়ার পর ঠিক কতজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ১৫ থেকে ৫০ জন পর্যন্ত আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
ছুটির দিন হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েকজনকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (এইমস) ট্রমা সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাস্থলে থাকা বিজেপির বিধায়ক অনিল শর্মা সাংবাদিকদের বলেন, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ফোন করছেন। তবে ভবনের ভেতরে ঠিক কতজন আটকে আছেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

নয়াদিল্লিতে ধসে পড়া ভবনে উদ্ধারকাজ চলছে। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
জোরালো উদ্ধার অভিযান
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছেন।
ধ্বংসস্তূপ সরাতে অন্তত ১২টি ফায়ার ইঞ্জিন ও এক্সক্যাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের কয়েকটি ভবন খালি করে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ৭৫ শয্যার মেসবাড়িটির মালিক গুরুগ্রামে বসবাস করেন। ভবন ধসে নিচে পার্ক করে রাখা কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নির্মাণকাজ নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির বেজমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ অংশে নির্মাণকাজ চলছিল। ওই কাজ ভবন ধসের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। আম আদমি পার্টি (এএপি) এ ঘটনার জন্য দুর্নীতিকে দায়ী করেছে।
দলটির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেন, মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অব দিল্লির (এমসিডি) ভবন নির্মাণ বিভাগে বদলি-বাণিজ্যের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অডিটের নামে অর্থ লুট হলেও বাস্তবে কাঠামোগত পরিবর্তন না হওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
দিল্লি সরকারের ভাষ্য
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা উদ্ধারকারী সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করাই এই মুহূর্তে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়ায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।






