প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি। ছবি: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে নতুন ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির এক মুখপাত্র বলেছেন, সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত এবং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রভান্ডার আরও শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাবে।
ইয়েমেনের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে ইরান। তাঁর ভাষ্য, আরেক দফা সংঘাত শুরু হলে নতুন অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।
গত কয়েক দিনে ইরানের একাধিক সামরিক কর্মকর্তাও সংঘাত আবার ছড়িয়ে পড়লে এর পরিসর পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের বাইরেও নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, সেপ্টেম্বরের শুরুতে সংঘাতের সময় তারা প্রথমবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয়। এ দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণের তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
এই হুঁশিয়ারির মধ্যেই কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে হরমুজ প্রণালী। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং সামরিক তৎপরতা বন্ধের বিষয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্তে এখনো সম্মত হয়নি, যদিও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কয়েকটি দেশ বিকল্প জ্বালানি রুট খুঁজছে। ইরাকও সিরিয়ার বানিয়াস বন্দর ব্যবহার করে জ্বালানি পরিবহনের উদ্যোগ নিয়েছে। সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।
একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ইরানের প্রতিরক্ষা খাতের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানের অস্ত্র ও সামরিক উপকরণ সংগ্রহে সহায়তা করেছে।
এর পাশাপাশি আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের সঙ্গে যুক্ত তিন কর্মকর্তার আর্থিক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি। তালিকায় রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ মেহরাবি, আহমেদ জাফরাবাদী ও আলী আসগর নওরোজি।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহ মেহরাবি আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের গবেষণা ও স্বনির্ভরতা জিহাদ সংস্থার প্রধান। আহমেদ জাফরাবাদী বাহিনীটির পরিচালনা ও লজিস্টিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং আলী আসগর নওরোজি আইআরজিসি কো-অপারেটিভ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরেরও নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সফরটি নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করেছে তেহরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইরান একদিকে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের জন্য সামরিক প্রস্তুতির কথা বলছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখার দাবি করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করাসহ ইরানের প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান এখনো কাটেনি।
চলমান সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতেও পড়ছে। নিষেধাজ্ঞা ও সংঘাতের মধ্যে দেশটির মুদ্রার মূল্য নতুন নিম্নস্তরে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সরবরাহ নেটওয়ার্কের ওপর আরও চাপ বাড়ানোর নীতি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।





